মনির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
খাগড়াছড়ির শালবন এলাকায় একটি মর্মান্তিক অটোরিকশা দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রী অর্পনা ধর (৪০) স্থানীয় শালবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষক ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এই শিক্ষিকার আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং স্বজনরা গভীরভাবে মর্মাহত। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো ব্যক্তিগত কাজে খাগড়াছড়ি সদরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই ঘটে যায় হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রবিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শালবন এলাকা থেকে খাগড়াছড়ি সদরের দিকে যাচ্ছিলেন অর্পনা ধর। যাত্রাপথে চলন্ত অটোরিকশার চাকায় তার ওড়না জড়িয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ওড়নাটি গলায় শক্তভাবে পেঁচিয়ে গেলে গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হয়। অটোরিকশাটি থামানোর আগেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই শিক্ষিকার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো শিক্ষা সম্প্রদায়ের জন্য বড় ক্ষতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শালবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, অর্পনা ধর ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল, দায়িত্বশীল এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একজন শিক্ষক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করে আসছিলেন। তার আকস্মিক প্রয়াণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। সহকর্মীরাও তার কর্মজীবনের বিভিন্ন ইতিবাচক স্মৃতিচারণ করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত অর্পনা ধরের দুটি যমজ শিশু সন্তান রয়েছে। হঠাৎ করে মাকে হারিয়ে সন্তান দুটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিহতের স্বামী অপু ধর কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমাদের দুটি যমজ শিশু সন্তান আছে। এখন তাদের কীভাবে মানুষ করব, কীভাবে মা ছাড়া বড় করব, বুঝতে পারছি না।” তার এই বক্তব্য উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করেছে। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শালবন এডিসি এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারটির জন্য ঘটনাটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষিকার মৃত্যু নিয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্তে কাজ করছে খাগড়াছড়ি থানা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চলন্ত যানবাহনে ওড়না, স্কার্ফ বা লম্বা কাপড় ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা। খাগড়াছড়ির এই শিক্ষিকার মৃত্যু আবারও সড়ক ও যানবাহন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরোও পড়ুন – নওগাঁয় নিখোঁজ শিশু জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার, তিন দিন পর নদীতে ভেসে উঠল
খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার ও শিক্ষাঙ্গন
মনির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
খাগড়াছড়ির শালবন এলাকায় একটি মর্মান্তিক অটোরিকশা দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রী অর্পনা ধর (৪০) স্থানীয় শালবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষক ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এই শিক্ষিকার আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং স্বজনরা গভীরভাবে মর্মাহত। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো ব্যক্তিগত কাজে খাগড়াছড়ি সদরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যেই ঘটে যায় হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রবিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শালবন এলাকা থেকে খাগড়াছড়ি সদরের দিকে যাচ্ছিলেন অর্পনা ধর। যাত্রাপথে চলন্ত অটোরিকশার চাকায় তার ওড়না জড়িয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ওড়নাটি গলায় শক্তভাবে পেঁচিয়ে গেলে গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হয়। অটোরিকশাটি থামানোর আগেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই শিক্ষিকার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো শিক্ষা সম্প্রদায়ের জন্য বড় ক্ষতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শালবন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, অর্পনা ধর ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল, দায়িত্বশীল এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একজন শিক্ষক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করে আসছিলেন। তার আকস্মিক প্রয়াণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। সহকর্মীরাও তার কর্মজীবনের বিভিন্ন ইতিবাচক স্মৃতিচারণ করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত অর্পনা ধরের দুটি যমজ শিশু সন্তান রয়েছে। হঠাৎ করে মাকে হারিয়ে সন্তান দুটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিহতের স্বামী অপু ধর কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমাদের দুটি যমজ শিশু সন্তান আছে। এখন তাদের কীভাবে মানুষ করব, কীভাবে মা ছাড়া বড় করব, বুঝতে পারছি না।” তার এই বক্তব্য উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করেছে। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শালবন এডিসি এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারটির জন্য ঘটনাটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষিকার মৃত্যু নিয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্তে কাজ করছে খাগড়াছড়ি থানা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চলন্ত যানবাহনে ওড়না, স্কার্ফ বা লম্বা কাপড় ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা। খাগড়াছড়ির এই শিক্ষিকার মৃত্যু আবারও সড়ক ও যানবাহন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরোও পড়ুন – নওগাঁয় নিখোঁজ শিশু জুলহাসের মরদেহ উদ্ধার, তিন দিন পর নদীতে ভেসে উঠল