
মাজহারুল ইসলাম বাদলঃ
ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রামে বিনামূল্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে নির্মিত স্যানিটারি টয়লেটের মান নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব টয়লেট নির্মাণ করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত মানের রিং, স্ল্যাব ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি টয়লেটগুলো ভ্যানগাড়িতে বহনের সময়ই ভেঙে পড়ছে, যা প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এতে একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগীরা মানসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শ্যামগ্রাম এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কিছু টয়লেটের রিং ও কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। স্থানীয়দের মতে, এভাবে নির্মিত টয়লেট স্থাপন করার পর দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ফলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নের যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে, তা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় জনগণের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অনিয়ম শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য যেসব টয়লেট বিনামূল্যে বিতরণের কথা, সেগুলোর মান নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তদারকি সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা দাবি করছেন, দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানসম্মত উপকরণ দিয়ে নতুন করে টয়লেট নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বারবার ফোন দেওয়া সত্ত্বেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যানিটেশন প্রকল্পে গুণগত মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সঙ্গে সরাসরি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তা জড়িত। শ্যামগ্রামের এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।