
আঃ হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
পরিবেশ সুরক্ষা ও আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত ইট ভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের অভিযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাঁচটি ইট ভাটার মালিককে মোট ২৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে মধুপুর উপজেলার একাধিক এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে এই জরিমানা আরোপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব ইট ভাটায় অনুমোদনহীনভাবে কাঠ পোড়ানো হচ্ছিল, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছিল।
অভিযানের আওতায় যে ইট ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেগুলো হলো—কালামাঝি এলাকার মেসার্স বিজয় ব্রিকস, কুড়ালিয়া এলাকার মেসার্স সিটি ব্রিকস ও মেসার্স এস.কে.বি ব্রিকস, দড়িহাতিল এলাকার মেসার্স তিতাস ব্রিকস এবং মেসার্স মধুপুর ব্রিকস। প্রতিটি ভাটার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ আলম। অভিযানের সময় পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল কার্যালয়ের পরিচালক বিপ্লব কুমার সূত্রধর ও উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক উপস্থিত থেকে পরিবেশগত দিকগুলো তদারকি করেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মধুপুর থানা পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কাঠ পোড়ানো ইট ভাটা এলাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস করছে এবং বায়ু দূষণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় এমন কঠোর পদক্ষেপ সময়োপযোগী। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইন অমান্য করে যারা পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।