
সেলিম মাহবুবঃ
শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে সর্বদলীয় ওলামা-মাশায়েখ ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে এক দোয়া ও মোনাজাত মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মত্যাগকারী এই সাহসী কণ্ঠস্বরের স্মৃতিকে ধারণ করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্ন নতুন করে উচ্চারিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী, আলেম-ওলামা, মাশায়েখ, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, ছাত্রসমাজ এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সকলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় একটি সর্বজনীন স্মরণ ও মূল্যবোধের মিলনমেলায়। ওসমান হাদীর জীবন ও সংগ্রামকে স্মরণ করে বক্তারা তাঁর আত্মত্যাগকে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেন।
আলোচনায় উঠে আসে, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়াই ছিল ওসমান হাদীর মূল শক্তি। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি ভয়কে উপেক্ষা করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর এই ভূমিকা সমাজে নৈতিক সাহস জাগ্রত করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মানবাধিকার প্রসঙ্গে আলোচকরা বলেন, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এই অধিকার সংকুচিত হলে সমাজে বৈষম্য ও অস্থিরতা আরও গভীর হয়। ওসমান হাদীর জীবন সেই বাস্তবতাই স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে সত্য বলার মূল্য দিতে হয়েছে জীবন দিয়ে।
দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারীরা ওসমান হাদীর আদর্শকে ব্যক্তি বা দলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামষ্টিক চেতনা হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এই চেতনাই পারে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।
শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি ধৈর্য ও শক্তি প্রার্থনা করা হয়। দেশ ও জাতির শান্তি, গণতন্ত্রের সুদৃঢ়তা এবং মানবাধিকারের সুরক্ষার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিল গভীর শ্রদ্ধা, আবেগ ও দায়িত্ববোধে পরিপূর্ণ। ওসমান হাদীর স্মরণে আয়োজিত এই দোয়া ও মোনাজাত মাহফিল আবারও প্রমাণ করে, সত্য ও ন্যায়ের পথে আত্মত্যাগ কখনো হারিয়ে যায় না, বরং তা সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়।