
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে অর্পিত (ভেস্টেড) সম্পত্তির মালিকানা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়নের দক্ষিণ ফৈনপুর মৌজার জে.এল নং ৭১ এবং খতিয়ান নং ১৬০-এর একটি সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উক্ত সম্পত্তি বাংলাদেশ সরকারের ভেস্টেড এন্ড নন-রেসিডেন্ট প্রপার্টি হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং এটি মুন্সীগঞ্জ মহাকুমার ম্যানেজমেন্ট কমিটির অধীনে রয়েছে। তবে সম্প্রতি একজন ব্যক্তি নিজেকে বৈধ উত্তরাধিকার দাবি করে মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অরুণ কুমার বসু (৬৫) নামের এক ব্যক্তি ২০১৯ সালে শ্রীনগর নির্বাচন অফিস থেকে ভোটার আইডি কার্ড ও জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই পরিচয় ব্যবহার করে পাটাভোগ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন। উক্ত সনদে তার পিতা হিসেবে মৃত প্রদ্যুত কুমার বসু এবং পূর্বপুরুষ হিসেবে রাজেন্দ্র কুমার বসুর নাম উল্লেখ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট আরএস পর্চার তথ্যের সঙ্গে এই নামগুলোর অসামঞ্জস্যতা দেখা গেছে, যা ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওয়ারিশ সনদে দেওয়া ঠিকানায় অরুণ কুমার বসুর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তিনি নিজেকে শ্রীনগরের ছোট বেজগাঁও গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা দাবি করলেও স্থানীয়দের অনেকেই তাকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল বেপারী এবং রুবেল জানান, দেশভাগের পর থেকে উক্ত পরিবারের কাউকে এলাকায় দেখা যায়নি। ফলে হঠাৎ করে উত্তরাধিকার দাবি করায় বিষয়টি সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, ওয়ারিশ সনদে উল্লেখিত রাজেন্দ্র কুমার বসু ও প্রদ্যুত কুমার বসু নামগুলো অতীতে এলাকার হিন্দু জমিদার পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের মতে, বর্তমান দাবিদার ব্যক্তি প্রকৃত উত্তরাধিকার নন এবং পরিকল্পিতভাবে ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অরুণ কুমার বসুর বিরুদ্ধে শ্রীনগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের রয়েছে, যার নম্বর ২০৮/২৫-২৬। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শ্রীনগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ গোলাম রাব্বানী সোহেল বলেন, ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে ভেস্টেড বা অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা দাবি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি গুরুতর অপরাধ এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি সকলকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আরোও পড়ুন - সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ নেতা মেহের আলী মেম্বারের খুঁটির জোর কোথায়!