
বিশেষ প্রতিবেদক, খান মেহেদীঃ
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ম্যাট্রেস শিল্পে নতুন সম্ভাবনার নাম হয়ে উঠেছে ই-টপ ম্যাট্রেস। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈম সজল একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আরামদায়ক ঘুমের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ম্যাট্রেস বাজারে এনেছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় যখন মানুষ ঘরে বন্দি, তখনই তিনি নিজের জীবন নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২০২০ সালে মহামারির সময়ে মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে। সেই সময় অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে নাঈম সজল অনলাইনে ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজতে থাকেন। শুরুতে শিমুল তুলার বালিশ দিয়ে অনলাইন মার্কেটিং শুরু করলেও ধীরে ধীরে বাজারের চাহিদা বুঝে ই-টপ ম্যাট্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। তখন অনলাইনে ম্যাট্রেস বিক্রির প্রবণতা খুব কম ছিল, ফলে তিনি নতুন একটি সুযোগ খুঁজে পান। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত এবং আরামদায়ক পণ্য সরবরাহ করা।
বাজারে অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড থাকলেও ই-টপ ম্যাট্রেস নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো লাইভ ম্যাট্রেস ফ্যাক্টরি, যেখানে গ্রাহক নিজে উপস্থিত থেকে ম্যাট্রেস তৈরির পুরো প্রক্রিয়া দেখতে পারেন। গ্রাহক চাইলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ম্যাট্রেস কাস্টমাইজ করতে পারেন এবং ফ্যাব্রিক নির্বাচন করতে পারেন। এই স্বচ্ছতা ও গ্রাহক সম্পৃক্ততা ব্যবসাটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
কম দামে ভালো মানের পণ্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও নাঈম সজলের পরিকল্পনা সুস্পষ্ট। তিনি নিজেই ফ্যাক্টরি পরিচালনা করেন এবং প্রতিটি পণ্যের মান তদারকি করেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় খরচ কমে যায় এবং গ্রাহক কম দামে উন্নত মানের ম্যাট্রেস পান। এছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং নিজে পরিচালনা করার ফলে অতিরিক্ত খরচ কমে যায়, যা ব্যবসাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করেছে।
শুরুর দিকে নানা বাধা ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে এই উদ্যোক্তাকে। অনেকেই তার অনলাইন ম্যাট্রেস ব্যবসাকে গুরুত্ব দেয়নি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু দৃঢ় মনোবল ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছেন। ভালো মানের পণ্য ও গ্রাহকসেবার মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং আজ সফলতার পথে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছেন।
অনলাইনে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা সহজ ছিল না। শুরুতে অনেক গ্রাহক অগ্রিম অর্থ দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাই নাঈম সজল ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করতেন, যদিও এতে কিছু আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ব্যবসায়িক নীতিমালা পরিবর্তন করে কাস্টমাইজ পণ্যে অগ্রিম অর্থ নেওয়া শুরু করেন, যা ব্যবসাকে আরও স্থিতিশীল করেছে।
বর্তমানে ই-টপ ম্যাট্রেস গ্রাহকদের জন্য বিক্রয়োত্তর সেবাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি সার্ভিস ওয়ারেন্টি দিয়ে গ্রাহকের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে। নাঈম সজলের বিশ্বাস, সঠিক পথে থাকলে এবং সততার সঙ্গে কাজ করলে সফলতা একসময় আসবেই। তার এই যাত্রা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আরোও পড়ুন - প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা প্রতারক আফসারা আফরোজ