
হালুয়াঘাট প্রতিনিধি,(মোস্তফা কামাল জয়)
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের মামলায় পাঁচজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এই হালুয়াঘাট হত্যা মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার (১২ এপ্রিল) রায় ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের দোষ প্রমাণিত হয়েছে। আলোচিত হালুয়াঘাট হত্যা মামলায় রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে আইনজীবী, পুলিশ ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর হালুয়াঘাট উপজেলার মোকামিয়া গ্রামে জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে হবিবুর রহমান গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সুফিয়া খাতুনও আহত হন। পুরো ঘটনাটি পরবর্তীতে আলোচিত হালুয়াঘাট হত্যা মামলার ভিত্তি তৈরি করে, যা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয় ছিল।
পরবর্তীতে নিহতের ভাগ্নি মোছা. নুরুন্নাহার ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর হালুয়াঘাট থানায় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বিচার চলাকালীন বিভিন্ন সময় মামলাটি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়ায় হালুয়াঘাট হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হয় এবং রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত রূপ পায়।
মামলার রায়ে আদালত পাঁচজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং ২০ জনকে খালাস প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শুক্কুর আলী, আমির আলী, জমির আলী, হাতেম আলী ও হারেজ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি মো. আবু হানিফ খান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. হারুনুর রশিদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই হালুয়াঘাট হত্যা মামলার রায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরোও পড়ুন - হাম উপসর্গে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি ৭৭ শিশু, বেড়েই চলছে আক্রান্ত