
সামাউন সাদমান আশিক
প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণ
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বরণে বর্ষবরণ প্রস্তুতি ঢাকায় এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারুকলা এলাকায় দেখা গেছে ব্যস্ততা ও নিরাপত্তার কড়া নজরদারি। নগরজুড়ে উৎসবের প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক ব্যবস্থা, যা এবারের বর্ষবরণকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করে তুলবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষবরণ প্রস্তুতি ঢাকায় বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দিন-রাত কাজ করছে। ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এবং চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে উৎসবের মূল আকর্ষণ। আগামীকাল ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান, যা চলবে সকাল ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত। দর্শনার্থীদের জন্য ভোর ৫টা থেকে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে বিকেল ৫টার পর প্রবেশ বন্ধ থাকবে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চারুকলা অনুষদের আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্ষবরণ প্রস্তুতি ঢাকায় এই শোভাযাত্রায় পাঁচটি প্রতীকী মোটিফ রাখা হয়েছে—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। প্রতিটি মোটিফই বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে তুলে ধরে। শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে এই উপস্থাপনাগুলো শোভাযাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তুলবে। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান আয়োজনের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।

নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বর্ষবরণ প্রস্তুতি ঢাকায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, পুরো ঢাকা মহানগরীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড (K-9) ও ক্রাইম সিন ভ্যান সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
উৎসবস্থল ও শোভাযাত্রার রুটজুড়ে থাকবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন এবং পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। গুজব প্রতিরোধে সাইবার স্পেসেও চালানো হবে বিশেষ নজরদারি। রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাবি এলাকায় মোট ১৪টি ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যেখানে প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এদিকে উৎসবের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিএমপি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে কোনো ধরনের মুখোশ, বড় ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বহন করা যাবে না। ফানুস ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শব্দ দূষণকারী বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইভটিজিং ও ছিনতাই রোধে বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি বা বস্তুর সন্ধানে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ চালু থাকবে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আরোও পড়ুন - শোভাযাত্রা বৈশাখ উদযাপন: দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে বর্ণিল প্রস্তুতি