
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত রেলওয়ে অপপ্রচার চালানোর একটি সংগঠিত চক্র সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই ডিজিকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিতর্কিত করতে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কিনা তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই রেলওয়ে অপপ্রচার–এর নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে সাবেক জিআইবিআর কর্মকর্তা ও বর্তমানে বরখাস্ত রমজান আলীর নাম উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেই দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এখন নিজের দায় এড়াতে বর্তমান ডিজিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন।
রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, রমজান আলী দায়িত্বে থাকাকালে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে পাথর সরবরাহকারী ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেন। সেইসব অনিয়মের তদন্ত এগোতে থাকায় তিনি নিজের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন। ফলে এখন তিনি পরিকল্পিতভাবে রেলওয়ে অপপ্রচার ছড়িয়ে ডিজি আফজাল হোসেনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কিছু অনলাইন পোর্টাল ও অপেশাদার সাংবাদিকদের মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর ছড়ানো হচ্ছে। এসব প্রতিবেদনে প্রকল্প চুক্তির নামে ৪০ শতাংশ ঘুষ গ্রহণের মতো অবাস্তব ও ভিত্তিহীন দাবি তুলে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা রেল সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্প নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রেলওয়ে অপপ্রচারকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ডিজি আফজাল হোসেন একজন অত্যন্ত সৎ কর্মকর্তা। তিনি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি দুর্নীতিবাজ চক্র তাকে টার্গেট করেছে। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে হেয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তার মতে, এ ধরনের অপপ্রচার রেলের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল রমজান আলী দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি অভিযোগ দাখিল করেন, যা সংশ্লিষ্টদের মতে মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই শেষ হওয়ার আগেই সেটিকে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ হিসেবে প্রচার করা হয়, যা পুরো বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। এতে করে প্রশাসনিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ২৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রমজান আলীর বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদিত হয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার একটি ছয়তলা বাড়ি রয়েছে, যা আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে এবং বর্তমানে তিনি রেলওয়ে থেকে বরখাস্ত অবস্থায় আছেন।
বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, যখন বর্তমান ডিজি রেলওয়ের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন, তখন এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে পরিচালিত রেলওয়ে অপপ্রচার রেলের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন- রাজশাহী-ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিযান: অপহরণকারী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার