
সামাউন সাদমান আশিক
প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণ
বর্তমান বৈশ্বিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি, আমদানি জোরদার এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ চলছে। সরকারের এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, দেশের জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সরকার বর্তমানে প্রায় ৫ লক্ষ লিটার তেলের মজুদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও মজুদদারির প্রবণতা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। সরকারের হাতে বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিকটন স্ট্র্যাটেজিক স্টক রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে হঠাৎ করে কোনো সংকট তৈরি হলেও তা মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি আমদানির বিষয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে আগামী ২০ বা ২১ এপ্রিল একটি নতুন কার্গো যাত্রা শুরু করবে, যা আগামী মে মাসের ২ তারিখের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ মেট্রিকটন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এতে করে সামনের মাসগুলোতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে এবং শিল্প ও পরিবহন খাতে স্বস্তি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। “ফুয়েল পাস” (Fuel Pass) অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে সাতটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ব্যবহারকারী এই অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। আগামী সপ্তাহে আরও সাতটি স্টেশনে এই সেবা চালু করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগরের সকল মোটরসাইকেলকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে জ্বালানি বিতরণ আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ হবে।
এছাড়া বছরের এই সময়টিকে রিফাইনারির কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান যুগ্ম সচিব। তিনি বলেন, শিল্প-কারখানায় ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সারাদেশে ডিলারশিপের একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরির কাজ চলছে, যার মাধ্যমে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় ডিলারদের শনাক্ত করে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে খুব শিগগিরই জ্বালানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আরোও পড়ুন - মশক নিধন কার্যক্রমে নতুন মিশন: পরিচ্ছন্নতায় জোর দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন