
সামাউন সাদমান আশিক,প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণঃ
রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে প্রধানমন্ত্রীর হজ ক্যাম্প পরিদর্শন ঘিরে সৃষ্টি হয় এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত পরিবেশ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছে সরাসরি হজযাত্রীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে পৌঁছানোর পরপরই তিনি অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় হজযাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন, যা তাদের যাত্রাকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই হজ ক্যাম্প পরিদর্শন চলাকালে তিনি ক্যাম্পের আবাসন ব্যবস্থা, খাদ্য সরবরাহ এবং চিকিৎসা সেবার মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করে নির্দেশ দেন, যাতে কোনো হজযাত্রী প্রশাসনিক বা কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন না হন। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর, যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে তাদের পবিত্র সফর শুরু করতে পারেন।

ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে একটি আধুনিক ও সেবামুখী হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। তাঁর হজ ক্যাম্প পরিদর্শন এর অংশ হিসেবে তিনি নতুন সংযোজিত সেবাগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন এবং তা আরও উন্নত করার নির্দেশনা দেন। তিনি হজযাত্রীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, তারা আল্লাহর মেহমান হিসেবে পবিত্র মক্কায় যাচ্ছেন এবং দেশের কল্যাণে দোয়া করার আহ্বান জানান।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। এই বিশাল সংখ্যক যাত্রীর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর হজ ক্যাম্প পরিদর্শন এর সময় আরও জোরদার করা হয়।

উল্লেখ্য, এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি, যা প্রশাসনের দক্ষ ব্যবস্থাপনারই প্রতিফলন।
আরোও পড়ুন - গোলাপির নতুন বাড়ি: নবীনগরের অসহায় নারীর পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান