
মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসজুড়ে ভিসি পরিবর্তন নিয়ে জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তনের নজির তৈরি হওয়ায় মাভাবিপ্রবিতেও একই ধরনের ভিসি পরিবর্তন ঘটতে পারে-এমন ধারণা থেকেই বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা এখন এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে মতামত প্রকাশ করছেন।
শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, সম্ভাব্য ভিসি পরিবর্তন হলে নতুন উপাচার্য অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক হওয়া উচিত। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের একাডেমিক পরিবেশ, প্রশাসনিক কাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন। ফলে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন এবং কার্যকরভাবে সমস্যা সমাধান করতে পারেন। বাইরের কোনো শিক্ষক এলে এসব বিষয় বুঝতে সময় লাগে, যা প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে।
মাভাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজস্ব শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ১৩.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষক আনার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী বর্তমান উপাচার্যকে বহাল রাখার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে, সম্ভাব্য ভিসি পরিবর্তন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজস্ব শিক্ষককে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বেশি।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবী হোসেন বলেন, নিজস্ব শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ দিলে প্রশাসনিক দক্ষতা ও কাজের গতি বৃদ্ধি পায়। তিনি মনে করেন, অভ্যন্তরীণ শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম, শিক্ষার মান এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন। তাই সম্ভাব্য ভিসি পরিবর্তন হলে নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া উচিত।
একইভাবে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাব্বি বলেন, নিজস্ব শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগ দিলে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। অতীতে দেখা গেছে, বাইরের ভিসিরা অনেক সময় ক্যাম্পাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেন না, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে।
তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এম. কে. সাহেল মনে করেন, বাইরের কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষককে ভিসি হিসেবে আনা হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হতে পারে। এতে করে আধুনিক পরিকল্পনা ও সংস্কারমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হয়। একই সুরে ওয়াসিফ অয়ন বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য বৃহত্তর একাডেমিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, যা বাইরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবির রহমান বলেন, ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত যোগ্যতা, সততা এবং নেতৃত্বদানের সক্ষমতা। তিনি উল্লেখ করেন, প্রার্থী নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোন বা বাইরের-যিনি গবেষণার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে নিজস্ব শিক্ষক হলে কাজের গতি কিছুটা বেশি হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞ শিক্ষকই সবচেয়ে উপযুক্ত। তারা উপাচার্যের পাশাপাশি উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার পদেও নিজস্ব শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানা গেছে, দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও নতুন ভিসি নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
আরোও পড়ুন - ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে মাভাবিপ্রবি উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস