ফিরোজ আহম্মেদ। টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে পলাতক আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ধনবাড়ী ইয়াবা কেন্দ্রিক এই অভিযানকে পুলিশ একটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু চক্র গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল এবং প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী ইয়াবা সংক্রান্ত এই অভিযান পরিচালিত হয় টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায়। ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নূরুস সালাম সিদ্দিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মোঃ আরিফুল হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতের আঁধারে বানিয়াজান এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশ গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল বলে জানা গেছে।
গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টা ৫ মিনিটে ধনবাড়ী থানাধীন বানিয়াজান এলাকার একটি বসতবাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ সদস্যরা চারদিক থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় আরও দুইজন সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রের সদস্যরা আগে থেকেই সতর্ক ছিল কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে মোঃ আপেল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক ওজন প্রায় ১.৫ গ্রাম এবং বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ধনবাড়ী ইয়াবা সংক্রান্ত এই ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ ধারণা করছে, তিনি একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং স্থানীয়ভাবে ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এই ঘটনায় পলাতক আসামি হিসেবে মোঃ আলী হাসান এবং মোঃ রফিকুল ইসলামকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তাদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে এবং সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ধনবাড়ী থানায় এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারা যুক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে তারা আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং জড়িতদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এই অভিযান শুধু একদিনের জন্য নয় বরং এটি চলমান কার্যক্রমের অংশ। ধনবাড়ী ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক নির্মূলে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ধনবাড়ী ইয়াবা ব্যবসা কিছুদিন ধরে গোপনে বিস্তার লাভ করছিল এবং এর প্রভাব তরুণদের ওপর পড়ছিল। তারা পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী প্রচারণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা যায়।
ধনবাড়ী ইয়াবা ঘটনায় একজন গ্রেফতার এবং দুইজন পলাতক আসামি হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের এই সফল অভিযানে একটি মাদক চক্রের কার্যক্রম আংশিকভাবে ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরোও পড়ুন – টেকনাফে ৩৬০০ পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেট কার জব্দ, নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার
ধনবাড়ী ইয়াবা: ১৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১, পলাতক দুই আসামি শনাক্ত
ফিরোজ আহম্মেদ। টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে পলাতক আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ধনবাড়ী ইয়াবা কেন্দ্রিক এই অভিযানকে পুলিশ একটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু চক্র গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল এবং প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী ইয়াবা সংক্রান্ত এই অভিযান পরিচালিত হয় টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায়। ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নূরুস সালাম সিদ্দিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মোঃ আরিফুল হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতের আঁধারে বানিয়াজান এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশ গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে আসছিল বলে জানা গেছে।
গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টা ৫ মিনিটে ধনবাড়ী থানাধীন বানিয়াজান এলাকার একটি বসতবাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ সদস্যরা চারদিক থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় আরও দুইজন সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রের সদস্যরা আগে থেকেই সতর্ক ছিল কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে মোঃ আপেল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক ওজন প্রায় ১.৫ গ্রাম এবং বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ধনবাড়ী ইয়াবা সংক্রান্ত এই ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ ধারণা করছে, তিনি একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং স্থানীয়ভাবে ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এই ঘটনায় পলাতক আসামি হিসেবে মোঃ আলী হাসান এবং মোঃ রফিকুল ইসলামকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তাদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে এবং সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ধনবাড়ী থানায় এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারা যুক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে তারা আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং জড়িতদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এই অভিযান শুধু একদিনের জন্য নয় বরং এটি চলমান কার্যক্রমের অংশ। ধনবাড়ী ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক নির্মূলে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ধনবাড়ী ইয়াবা ব্যবসা কিছুদিন ধরে গোপনে বিস্তার লাভ করছিল এবং এর প্রভাব তরুণদের ওপর পড়ছিল। তারা পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী প্রচারণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ধনবাড়ী ইয়াবা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা যায়।
ধনবাড়ী ইয়াবা ঘটনায় একজন গ্রেফতার এবং দুইজন পলাতক আসামি হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের এই সফল অভিযানে একটি মাদক চক্রের কার্যক্রম আংশিকভাবে ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরোও পড়ুন – টেকনাফে ৩৬০০ পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেট কার জব্দ, নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার