
মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ স্থান করে নিয়ে আলোচনায় এসেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)। সম্প্রতি প্রকাশিত এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ৬০১–৮০০ ব্যান্ডে অবস্থান করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে, যা উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাভাবিপ্রবি র্যাঙ্কিং-এ এই অর্জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হলেও প্রথমবার অংশ নিয়েই মাভাবিপ্রবির এমন অবস্থান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একই ব্যান্ডে থাকা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এই অবস্থানের ফলে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে মাভাবিপ্রবি র্যাঙ্কিং নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও মাভাবিপ্রবি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ও গবেষণামূলক অগ্রগতির প্রমাণ বহন করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমিত অবকাঠামো ও বাজেট সত্ত্বেও গবেষণায় ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রচেষ্টা এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে গবেষণা আউটপুট বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে মাভাবিপ্রবি র্যাঙ্কিং-এ ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, শিক্ষাদানে মাভাবিপ্রবির স্কোর ১৬ দশমিক ৭, গবেষণা পরিবেশে ১০ দশমিক ৬ এবং গবেষণার মানে উল্লেখযোগ্যভাবে ৫৭ দশমিক ৩ স্কোর অর্জন করেছে। এছাড়া শিল্প খাত থেকে আয় ১৯ দশমিক ৬ এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ৪৬ দশমিক ৮ স্কোর বিশ্ববিদ্যালয়টির বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। সার্বিক স্কোর ২৩ দশমিক ৩ থেকে ৩০ দশমিক ৮-এর মধ্যে অবস্থান করায় বোঝা যায়, ভবিষ্যতে উন্নতির আরও সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি সূচকে দেশের মধ্যে নবম স্থান অর্জন করা মাভাবিপ্রবি র্যাঙ্কিং-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আনোয়ারুল আজিম আখন্দ এ বিষয়ে বলেন, “এই অর্জন কেবল একটি সূচনা। আমরা আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করাই আমাদের উদ্দেশ্য।” তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যা দেশের উচ্চশিক্ষার মানের প্রতিফলন। অন্যদিকে এশিয়ার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীনের ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, যা টানা অষ্টমবারের মতো এই অবস্থানে রয়েছে এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রেক্ষাপটে মাভাবিপ্রবির অবস্থান দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, THE র্যাঙ্কিং মূলত পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়—শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণার প্রভাব, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ এবং আন্তর্জাতিকীকরণ। এই সূচকগুলোতে ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে মাভাবিপ্রবি আরও ভালো অবস্থানে যেতে সক্ষম হবে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা বাড়ানো এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করার বিষয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই অর্জন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা বলছেন, গবেষণায় আরও মনোযোগী হওয়ার জন্য এটি একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। সামগ্রিকভাবে, মাভাবিপ্রবি র্যাঙ্কিং-এ এই সাফল্য শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি।
আরোও পড়ুন - মাভাবিপ্রবিতে বহিরাগত মাদকাসক্তের ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী আহত, আটক ১