
মো. ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘ কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহ, অসহনীয় গরম এবং সূর্যের প্রখর তাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল গাজীপুরের জনজীবন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল বিকেল ৫টার দিকে শুরু হয় গাজীপুরে ঝড়ো বৃষ্টি। হঠাৎ করে কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়, সঙ্গে শুরু হয় তীব্র ঝড়ো হাওয়া। মুহূর্তেই পরিবেশে নেমে আসে আতঙ্কের আবহ। রাস্তাঘাটে চলাচলকারী মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে প্রথম দফার ঝড় ও বৃষ্টি কিছু সময়ের মধ্যেই থেমে যায়।
কিন্তু রাত ৮টার পর আবারও নতুন করে শুরু হয় গাজীপুরে ঝড়ো বৃষ্টি। এবার ঝড়ের তীব্রতা ছিল আরও বেশি। ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে একটানা ভারি বর্ষণ চলতে থাকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৃষ্টিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কয়েক দিনের দাবদাহে ক্লান্ত মানুষ বৃষ্টির কারণে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর আগে তীব্র গরমের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ঘনঘন লোডশেডিং এবং গ্যাস সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। বিশেষ করে শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিলেন। অনেকে রাতেও ঘুমাতে পারেননি অতিরিক্ত গরমের কারণে। এমন অবস্থায় গাজীপুরে ঝড়ো বৃষ্টি যেন স্বস্তির বার্তা হয়ে আসে।
টানা বৃষ্টির কারণে গাজীপুরের কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু সড়কে পানি জমে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। কিছু এলাকায় বাড়িঘরের আঙিনা ও আশপাশের জমিতেও পানি ঢুকে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সামান্য সময়ের ভারি বৃষ্টিতেই অনেক স্থানে পানি জমে যায়। ফলে ভোগান্তিও বাড়ে।
আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে কৃষকরাও কিছুটা আশাবাদী। তারা বলছেন, দীর্ঘ তাপদাহের পর এই বৃষ্টি জমির আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনবে এবং ফসলের জন্য উপকার বয়ে আনতে পারে। একই সঙ্গে ধুলাবালি কমে যাওয়ায় পরিবেশও কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। শহর ও শিল্পাঞ্চল এলাকাগুলোতেও বাতাসে শীতলতা অনুভূত হচ্ছে।
সকালেও গাজীপুরের আকাশ ছিল ঘন মেঘাচ্ছন্ন। সূর্যের দেখা মেলেনি। চারদিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়দের ধারণা, দিনের যেকোনো সময় আবারও বৃষ্টি নামতে পারে। অনেকেই ছাতা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও চাকরিজীবীরা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের অস্বস্তিকর গরমের পর এই বৃষ্টি তাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা যেন নতুন সমস্যা তৈরি না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।
আরোও পড়ুন - অসহায় বৃদ্ধা আশ্রয় সংকট, ঝড়-বৃষ্টিতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন জেলেকা বেওয়া