নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নারায়ণগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ। বোরকা ও নিকাব পরিহিত কিছু তরুণীকে নিয়ে গড়ে ওঠা এই গ্রুপটি শুরুতে অনেকের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করলেও সময়ের সঙ্গে তাদের নানা কার্যক্রম ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ভিডিও, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং আচরণগত বিষয় নিয়ে স্থানীয় নেটিজেনদের মধ্যে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ নামটি ব্যবহার করে পর্দাশীলতার বার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের কিছু সদস্য সামাজিক মাধ্যমে রিলস ও শর্ট ভিডিও তৈরিতে অতিরিক্ত মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভিডিওতে পোশাক পর্দানসই হলেও অঙ্গভঙ্গি ও উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের ভাষ্য, এ ধরনের কনটেন্ট ভিউ বাড়ানো ও পরিচিতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ-এর নেতৃত্বে রয়েছেন দোলা মল্লিক নামে এক নারী। তাকে ঘিরে অনুসারীদের মধ্যেও আলাদা একটি বলয় তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। গ্রুপটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সুমাইয়া ইসলাম ফারিহা, হাফিজা, সারাফা মুন্নিসহ আরও কয়েকজনকে নিয়মিত দেখা যায় বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকটি গ্রুপ ও সংগঠনের অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ-এর সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, কী ধরনের সামাজিক অবদান বা কার্যক্রমের ভিত্তিতে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। যদিও আয়োজক পক্ষের কেউ কেউ বলছেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও নারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

এর আগেও একটি পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ বিতর্কে জড়ায় বলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা ছিল। ওই ঘটনায় এক নারীকে অতিথি করার পর তাকে ঘিরে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে গ্রুপের নেতৃত্ব থেকে সেই অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তৈরি হয়েছে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল স্থানে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, মসজিদ, মাজার বা জনসমাগমস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও তৈরি করা উচিত হয়নি। তাদের মতে, ব্যক্তিগত প্রচার বা সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তার জন্য এমন স্থান ব্যবহার করলে তা মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
গত ২৪ এপ্রিল একটি স্থানীয় গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ১০ হাজার পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ-কে আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে জানা গেছে। সেখানে তাদের সম্মাননা ক্রেস্টও দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ওই ভিডিওগুলোতে উপস্থিত কয়েকজনের অঙ্গভঙ্গি নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ যদি সত্যিই ইতিবাচক বার্তা দিতে চায়, তাহলে তাদের উচিত হবে বিতর্কিত কনটেন্ট এড়িয়ে সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা। কেউ কেউ আবার বলছেন, শুধুমাত্র ভিডিও ক্লিপ দেখে কাউকে বিচার করা উচিত নয়; সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও শোনা দরকার।
এদিকে কিছু পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, এ বিষয়ে সমালোচনা করলে কিছু ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেকেই বিতর্কিত পথ বেছে নিচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ-কে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা সেই বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ। তারা বলছেন, যে কোনো সংগঠনের উচিত সামাজিক দায়বদ্ধতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণকে প্রাধান্য দেওয়া।
আরোও পড়ুন – প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা প্রতারক আফসারা আফরোজ
নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ নিয়ে বিতর্ক, সামাজিক মাধ্যমে উঠছে নানা অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নারায়ণগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ। বোরকা ও নিকাব পরিহিত কিছু তরুণীকে নিয়ে গড়ে ওঠা এই গ্রুপটি শুরুতে অনেকের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করলেও সময়ের সঙ্গে তাদের নানা কার্যক্রম ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ভিডিও, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং আচরণগত বিষয় নিয়ে স্থানীয় নেটিজেনদের মধ্যে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ নামটি ব্যবহার করে পর্দাশীলতার বার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবে তাদের কিছু সদস্য সামাজিক মাধ্যমে রিলস ও শর্ট ভিডিও তৈরিতে অতিরিক্ত মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভিডিওতে পোশাক পর্দানসই হলেও অঙ্গভঙ্গি ও উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের ভাষ্য, এ ধরনের কনটেন্ট ভিউ বাড়ানো ও পরিচিতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ-এর নেতৃত্বে রয়েছেন দোলা মল্লিক নামে এক নারী। তাকে ঘিরে অনুসারীদের মধ্যেও আলাদা একটি বলয় তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। গ্রুপটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সুমাইয়া ইসলাম ফারিহা, হাফিজা, সারাফা মুন্নিসহ আরও কয়েকজনকে নিয়মিত দেখা যায় বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকটি গ্রুপ ও সংগঠনের অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ-এর সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, কী ধরনের সামাজিক অবদান বা কার্যক্রমের ভিত্তিতে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। যদিও আয়োজক পক্ষের কেউ কেউ বলছেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও নারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

এর আগেও একটি পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ বিতর্কে জড়ায় বলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা ছিল। ওই ঘটনায় এক নারীকে অতিথি করার পর তাকে ঘিরে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে গ্রুপের নেতৃত্ব থেকে সেই অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তৈরি হয়েছে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল স্থানে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, মসজিদ, মাজার বা জনসমাগমস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও তৈরি করা উচিত হয়নি। তাদের মতে, ব্যক্তিগত প্রচার বা সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তার জন্য এমন স্থান ব্যবহার করলে তা মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
গত ২৪ এপ্রিল একটি স্থানীয় গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ১০ হাজার পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ-কে আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে জানা গেছে। সেখানে তাদের সম্মাননা ক্রেস্টও দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ওই ভিডিওগুলোতে উপস্থিত কয়েকজনের অঙ্গভঙ্গি নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ যদি সত্যিই ইতিবাচক বার্তা দিতে চায়, তাহলে তাদের উচিত হবে বিতর্কিত কনটেন্ট এড়িয়ে সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা। কেউ কেউ আবার বলছেন, শুধুমাত্র ভিডিও ক্লিপ দেখে কাউকে বিচার করা উচিত নয়; সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও শোনা দরকার।
এদিকে কিছু পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, এ বিষয়ে সমালোচনা করলে কিছু ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেকেই বিতর্কিত পথ বেছে নিচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ-কে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা সেই বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ। তারা বলছেন, যে কোনো সংগঠনের উচিত সামাজিক দায়বদ্ধতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণকে প্রাধান্য দেওয়া।
আরোও পড়ুন – প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা প্রতারক আফসারা আফরোজ