
সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ ও মাদক উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে চোরাচালান রোধে টহল জোরদার করার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভোররাত ও সকালে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মাদকদ্রব্য ও নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করা হলেও সংশ্লিষ্ট পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবির এমন ধারাবাহিক তৎপরতা স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২টা ০৫ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের রাজাপুর বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযান চালায়। নায়েব সুবেদার শ্রী তাপস সরকারের নেতৃত্বে দলটি সীমান্ত পিলার ৭১/৯-এস সংলগ্ন রাজাপুর গ্রামের একটি খেজুর বাগানে অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪৪ বোতল ভারতীয় ‘WINCEREX’ সিরাপ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্ত পেরিয়ে এসব মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পণ্য ফেলে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে সকাল আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের উথলী বিওপি এলাকায় আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। হাবিলদার মো. ইছাববর আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে সন্তোষপুর গ্রামের পাকা রাস্তার পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এসব ওষুধের বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সীমান্ত পথে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা এসব পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। ফলে এগুলো জব্দ করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের সক্রিয় রুট হিসেবে পরিচিত। মাদক, কসমেটিকস, ওষুধ, কাপড়সহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা প্রায়ই হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি বাড়ানোর কারণে চোরাচালানকারীরা চাপে পড়েছে। নিয়মিত টহল, রাতভর পাহারা এবং গোয়েন্দা নজরদারির ফলে একের পর এক মাদক উদ্ধার ও চোরাচালানবিরোধী সফল অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জনগণের সহযোগিতা পেলে আরও কার্যকরভাবে মাদক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তিনি সীমান্তবাসীকে সন্দেহজনক কোনো তথ্য দ্রুত বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানান।
আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত পথে অবৈধ ওষুধ প্রবেশ জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। অনেক সময় এসব ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল বা মানহীন হয়ে থাকে। একইভাবে মাদকদ্রব্য তরুণ সমাজকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। তাই মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ আরও কমে আসবে।
বর্তমানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও ভারতীয় ওষুধ বিজিবির হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্তজুড়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে মহেশপুর সীমান্তে চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
আরোও পড়ুন - অস্ত্র উদ্ধার: রায়পুরায় চরমেঘনায় অভিযান, রাকিব গ্রেপ্তার