
কুড়িগ্রাম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | স্টাফ রিপোর্টার
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ব্যাপারীহাট এলাকার বাঁশের তল সংলগ্ন সড়কে একটি মাইক্রোবাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও চালকও রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন শিলখুড়ি ইউনিয়নের আসাদমোড় এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে নুরনবী, শামীমের মেয়ে সাদিয়া এবং মাইক্রোবাস চালক লিমন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নুরনবী ও সাদিয়া সম্পর্কে চাচা–ভাতিজি ছিলেন। তারা চিকিৎসাসেবা নিতে রংপুরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তাদের প্রাণ কেড়ে নেয়। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এলাকায় স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভুরুঙ্গামারীগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে কুড়িগ্রামমুখী মাইক্রোবাসটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করতে স্থানীয়দের দীর্ঘ সময় চেষ্টা করতে হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেয়। ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনা এলাকায় চলাচলরত অন্যান্য যাত্রীদের মাঝেও আতঙ্ক তৈরি করে।

আহত ১১ জনের মধ্যে কয়েকজনকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অন্তত ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে কয়েকজনের। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওই সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং প্রবণতা এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুতগতির যান নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পুলিশ টহল এবং সড়কে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ হীল জামান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ট্রাকটি জব্দের চেষ্টা চলছে এবং চালকের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা জরুরি। অন্যথায় এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর এই ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরোও পড়ুন - নরসিংদীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় দিনমজুর নিহত