
(বরিশাল) উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি: সবুজ হাওলাদার
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের মানুষের সবচেয়ে কাছের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হলো ইউনিয়ন পরিষদ। জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে ভাতা, রাস্তা নির্মাণ, ত্রাণ বিতরণ, কৃষি সহায়তা, নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সচেতনতা সবকিছুর বড় একটি অংশ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনেক সাধারণ মানুষ এখনো জানেন না ইউপি সেবা তালিকা কত বড় এবং তাদের জন্য কী কী সুযোগ রয়েছে। ফলে অনেকেই অধিকার থাকা সত্ত্বেও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে অন্তত ৮৩ ধরনের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, দুস্থ নারী সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, কর্মসংস্থান প্রকল্প, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, শিক্ষা সহায়তা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন। অথচ সচেতনতার অভাবে গ্রামের বহু মানুষ ইউপি সেবা তালিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, শিশু সহায়তা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং হতদরিদ্রদের বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছানোর কথা। অনেক পরিবার অভিযোগ করেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সবসময় তালিকাভুক্ত হন না। কেউ কেউ আবার আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কেও জানেন না। সচেতন মহল বলছে, ইউপি সেবা তালিকা নিয়মিত প্রচার করলে এসব অনিয়ম অনেকটাই কমে আসতে পারে।
অবকাঠামো উন্নয়নেও ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার, ব্রিজ, কালভার্ট, ড্রেন, বাজার উন্নয়ন, খাল খনন, বাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন এবং টিউবওয়েল স্থাপনসহ বহু কাজ চেয়ারম্যানদের তত্ত্বাবধানে হওয়ার কথা। কিন্তু অনেক এলাকায় দেখা যায়, কাজের মান নিম্নমানের অথবা প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় না। স্থানীয়রা বলছেন, উন্নয়ন বাজেট কোথায় ব্যয় হয় তা প্রকাশ্যে জানানো দরকার।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা কম নয়। স্কুল মেরামত, উপবৃত্তি সহযোগিতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ক্ষমতায়ন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ক্যাম্প, টিকাদান এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সেবা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে গ্রামাঞ্চলের জীবনমান দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই ইউপি সেবা তালিকা প্রতিটি ওয়ার্ডে টানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
ডিজিটাল সেবার যুগে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, অনলাইন আবেদনসহ নানা সেবা সহজ হয়েছে। তবে এখনও অনেক মানুষ দালালচক্রের কারণে হয়রানির শিকার হন। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদে সেবার তালিকা প্রকাশ, অভিযোগ বক্স স্থাপন এবং অনলাইন মনিটরিং চালু করা হোক।
সচেতন নাগরিকদের মতে, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা জনগণের প্রতিনিধি। তাই জনগণের অধিকারভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে ইউনিয়ন পরিষদ সত্যিকার অর্থেই তৃণমূল মানুষের আস্থার কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
আরোও পড়ুন - উজিরপুরে হাসপাতাল দালালচক্র সক্রিয়, রোগী হয়রানি চরমে