
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নারী শিক্ষার্থী উত্যক্ত করার অভিযোগে এক বহিরাগত যুবককে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সোপর্দ করা হলে প্রশাসন লিখিত ও ভিডিও মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আটক যুবকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে অনুসরণ ও বিরক্ত করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন এবং সরাসরি উপস্থিত হয়ে ওই ছাত্রীকে মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতেন। এতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চরম অস্বস্তি ও আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সহপাঠীদের কাছেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আবারও নারী শিক্ষার্থী উত্যক্ত করার চেষ্টা করলে আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানান। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়। এরপর তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তার অভিভাবকরা ক্যাম্পাসে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দেন। প্রশাসন অভিযুক্তের কাছ থেকে লিখিত ও ভিডিও মুচলেকা নেয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। পরে পরিবারের জিম্মায় তাকে হস্তান্তর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, দুপুর ২টার দিকে এক বহিরাগত আমাদের এক ছাত্রীকে হেনস্তা করে। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসে। আমরা তার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা এসে ছেলের দায়িত্ব নিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের নারী শিক্ষার্থী উত্যক্ত বা হেনস্তার ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করলেও কেউ কেউ বলছেন, শুধু মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো এবং নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আরোও পড়ুন - জাবি ছাত্রকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ৬ বাস আটক