
মো. রেজওয়ান, রাবি প্রতিনিধি
গ্রীষ্মের শুরুতেই নতুন রূপে সেজে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এপ্রিল থেকে জুন মাসজুড়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ফুটে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন জারুল ফুল। পশ্চিমপাড়া, শহীদ মিনার এলাকা, একাডেমিক ভবনের পাশসহ নানা সড়কে সারি সারি গাছে বেগুনি ফুলের সমারোহ চোখে পড়ছে। এতে পুরো রাবি ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির রঙিন আবরণে ঢেকে গেছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, দর্শনার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন।
সকালবেলার কোমল আলো কিংবা বিকেলের নরম রোদে জারুল ফুলের রঙ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। হালকা বাতাসে ফুলের দোল খাওয়া আর এক পশলা বৃষ্টির পর ভেজা পাপড়ির ঝলকানি ক্যাম্পাসে এনে দেয় অন্যরকম আবহ। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা কিছু সময় নিরিবিলি বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাবি ক্যাম্পাস ঘিরে বাড়ছে আলোচনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান নোমান বলেন, প্রতি বছর এই সময়টাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জারুল ফুল ফুটলে চারপাশের পরিবেশ বদলে যায়। পড়াশোনার চাপের মধ্যেও এমন দৃশ্য দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির এই সৌন্দর্য শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি দেয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠ সব সময়ই পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক পরিবেশের জন্য পরিচিত। তবে জারুল ফুল ফুটলে সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পায়। অনেক দর্শনার্থী শুধুমাত্র এই দৃশ্য দেখতে আসেন। তিনি মনে করেন, প্রশাসনের নিয়মিত পরিচর্যা ও সবুজায়ন কার্যক্রমের ফলেই আজ রাবি ক্যাম্পাস সবার কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য শুধু ভবন বা অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জারুলের পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ও অন্যান্য ফুলও ফুটতে শুরু করেছে। ফলে বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাস যেন রঙিন এক উদ্যানের রূপ নিয়েছে। গ্রীষ্মের তাপদাহের মধ্যেও এই মনোরম পরিবেশ শিক্ষার্থীদের ক্লান্তি দূর করে স্বস্তি এনে দিচ্ছে।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, জারুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি পরিবেশবান্ধব গাছ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। ছায়া দেওয়া, বাতাস বিশুদ্ধ রাখা এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে এ গাছের ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন গাছের উপস্থিতি পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তোলে। বছরের এই সময়টাতে রাবি ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যে কারও জন্য হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
আরোও পড়ুন - কুবিতে নারী শিক্ষার্থী উত্যক্ত, বহিরাগত যুবক আটক, মুচলেকা দিয়ে মুক্তি