
মোঃ সাইফুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রাম জেলায় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে পরিচালিত কুড়িগ্রাম সীমান্ত অভিযান এ বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য, মাদকদ্রব্য এবং গবাদিপশু জব্দ করেছে। সীমান্ত পথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ও পাচার ঠেকাতে বিজিবির ধারাবাহিক তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান চক্র সক্রিয় হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরপর একাধিক টহল দল ও বিশেষ চেকপোস্টের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সীমান্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য, মাদকদ্রব্য, অবৈধভাবে আনা মালামাল এবং কয়েকটি গবাদিপশু আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৬ লাখ টাকার কাছাকাছি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি, টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। কুড়িগ্রাম সীমান্ত অভিযান এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে যে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর অবস্থানের কারণে এসব চক্র অনেকটাই চাপে পড়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকা আরও নিরাপদ হবে এবং অবৈধ বাণিজ্য কমে আসবে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য জব্দের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক, পিএসসি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। ভবিষ্যতেও কুড়িগ্রাম সীমান্ত অভিযান এর মতো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে চোরাচালান ও মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, স্থানীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিজিবির সাম্প্রতিক এই সফল অভিযান সেই প্রচেষ্টারই বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরোও পড়ুন - মহেশপুর সীমান্তে মাদক উদ্ধার, ভারতীয় ওষুধ জব্দ বিজিবির পৃথক অভিযান