
সাকিব মাহমুদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬। সোমবার (০৪ মে) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটিক্স মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে তিন দিনব্যাপী এই ইবি ক্রীড়া আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অতিথিদের উপস্থিতিতে ইবি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আরও উৎসবমুখর পরিবেশ পায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারী ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম প্রধানরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া দলগুলোর অভিবাদন গ্রহণ করেন অতিথিবৃন্দ। এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটিক্সের বিভিন্ন ইভেন্ট যেমন দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্পের পাশাপাশি বাস্কেটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্য পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ৫০০ জনকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে ইবি ক্রীড়া আয়োজনের মতো উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও প্রযুক্তিনির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও কাজ চলছে, যা দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ইবি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু বিনোদন নয়, বরং দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরাও এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সার্বিকভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া উদ্যোগটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন - “জ্ঞানের সন্ধানে গবেষণা” নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ গবেষক বরণ