
মো. জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত মাভাবিপ্রবি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে জমজমাট ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘সলস্টিস’। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মাভাবিপ্রবি ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
ফাইনাল ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সলস্টিস দল। নির্ধারিত ১২ ওভারের ম্যাচে তারা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে। ওপেনিং থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকে দলটি। বিশেষ করে ব্যাটসম্যান রাব্বির ব্যাটে ছিল দুর্দান্ত ঝড়ো ইনিংস। তার ৬৩ রানের অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষের বোলিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষে সলস্টিস ১৩৮ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ দাঁড় করায়, যা এই মাভাবিপ্রবি ক্রিকেট ফাইনালের জন্য চ্যালেঞ্জিং টার্গেট হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অ্যাকোভার্স দলও দারুণ লড়াই উপহার দেয়। ম্যাচের শুরুতে কিছু উইকেট হারালেও মাঝের ওভারে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল খেলায় ম্যাচের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। তবে সলস্টিসের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং দুর্দান্ত ফিল্ডিং অ্যাকোভার্সকে বড় স্কোর গড়তে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ১২৩ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস, ফলে ১৫ রানের জয় নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে সলস্টিস। এই মাভাবিপ্রবি ক্রিকেট ফাইনালে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য রাব্বি ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করেন।
খেলা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছিল উৎসবমুখর। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার আজীম আখন্দ এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তারা অনুপস্থিত ছিলেন। পরে অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নান্নুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, প্রভাষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মাভাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজাদুর রহমান দিপুসহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বক্তারা বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশেও সহায়ক। তারা আয়োজক ব্যাচ ‘পোর্টফোলিও’র সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন, যা পুরো মাভাবিপ্রবি ক্রিকেট আয়োজনকে সফল করে তোলে।
আয়োজক প্রতিনিধি রাহাত মির্জা তারেক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র। খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুসংহত হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এই আয়োজন শুধু একটি খেলায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল শিক্ষার্থীদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও উদ্দীপনার এক অনন্য উদাহরণ।
আরোও পড়ুন - মাভাবিপ্রবি হলে অভিযান ঘিরে ক্ষোভ, গ্যাস-ওয়াইফাই সংকটে শিক্ষার্থীরা