নাসিরনগর হাওর পরিদর্শনে আসছেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওর অঞ্চল পরিদর্শনে আগামীকাল শনিবার (৯ মে) সফরে আসছেন কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও আকস্মিক বন্যার কারণে উপজেলার বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নাসিরনগর হাওর পরিদর্শন ঘিরে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএসের নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে নাসিরনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মন্ত্রী। দুপুর ১২টার দিকে তিনি নাসিরনগর উপজেলা ডাকবাংলোয় পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। সেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নাসিরনগর হাওর পরিদর্শন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মন্ত্রী উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। চলতি মৌসুমে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে নাসিরনগরের বহু কৃষকের বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও ফসল ঘরে তুলতে না পারায় এখন তারা আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্যমতে, কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় নাসিরনগর হাওর পরিদর্শন কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রী বিকেল ৪টায় নাসিরনগর উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে দুর্যোগে নিহত কৃষক আহাদ মিয়ার পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হবে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক কৃষক পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা ও কৃষি পুনর্বাসন সামগ্রী বিতরণ করা হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কৃষকদের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে নাসিরনগর হাওর পরিদর্শন ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।

সফরকালে নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হালনাগাদ করে সরকারের কাছে পাঠানোর কাজও দ্রুতগতিতে চলছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, শুধু ত্রাণ সহায়তা নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের সুদমুক্ত কৃষিঋণ, বিনামূল্যে বীজ ও সার এবং পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহায়তা ছাড়া তাদের পক্ষে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা সম্ভব হবে না। তাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং হাওর অঞ্চলের কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসবে।

সফর শেষে বিকেল ৫টায় মন্ত্রী নাসিরনগর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং রাত ৮টার দিকে মহাখালী ডিওএইচএসের বাসভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের আশা, এই সফরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।

আরোও পড়ুন – ইসলামপুরে কৃষি প্রণোদনার সার–বীজ পাচারের অভিযোগে তদন্তের দাবি

নাসিরনগর হাওর পরিদর্শনে আসছেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মে ৮, ২০২৬

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওর অঞ্চল পরিদর্শনে আগামীকাল শনিবার (৯ মে) সফরে আসছেন কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও আকস্মিক বন্যার কারণে উপজেলার বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নাসিরনগর হাওর পরিদর্শন ঘিরে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএসের নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে নাসিরনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মন্ত্রী। দুপুর ১২টার দিকে তিনি নাসিরনগর উপজেলা ডাকবাংলোয় পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। সেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নাসিরনগর হাওর পরিদর্শন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মন্ত্রী উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। চলতি মৌসুমে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে নাসিরনগরের বহু কৃষকের বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও ফসল ঘরে তুলতে না পারায় এখন তারা আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্যমতে, কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় নাসিরনগর হাওর পরিদর্শন কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রী বিকেল ৪টায় নাসিরনগর উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে দুর্যোগে নিহত কৃষক আহাদ মিয়ার পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হবে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক কৃষক পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা ও কৃষি পুনর্বাসন সামগ্রী বিতরণ করা হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কৃষকদের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে নাসিরনগর হাওর পরিদর্শন ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।

সফরকালে নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হালনাগাদ করে সরকারের কাছে পাঠানোর কাজও দ্রুতগতিতে চলছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, শুধু ত্রাণ সহায়তা নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের সুদমুক্ত কৃষিঋণ, বিনামূল্যে বীজ ও সার এবং পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহায়তা ছাড়া তাদের পক্ষে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা সম্ভব হবে না। তাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং হাওর অঞ্চলের কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসবে।

সফর শেষে বিকেল ৫টায় মন্ত্রী নাসিরনগর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং রাত ৮টার দিকে মহাখালী ডিওএইচএসের বাসভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের আশা, এই সফরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।

আরোও পড়ুন – ইসলামপুরে কৃষি প্রণোদনার সার–বীজ পাচারের অভিযোগে তদন্তের দাবি