
বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
রাজনীতির মাঠে কিছু নেতা থাকেন, যারা পদ-পদবির চেয়েও বড় হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও নির্ভরতায়। বগুড়ার শেরপুরে এমনই একটি আলোচিত নাম মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু । দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় অতীত এবং মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার অঙ্গীকারে তিনি আজ সুপরিচিত একজন জননন্দিত, জনপ্রিয়, নির্ভীক ও মানবিক জননেতা হিসেবে।
সরেজমিনে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, আসন্ন শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন সাবেক ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিককে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নাগরিকরা। দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এই জনপদ এখন খুঁজছে সৎ, দক্ষ, সাহসী, শিক্ষিত, মার্জিত ও জনবান্ধব নেতৃত্ব। ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু ঠিক সেই নেতৃত্বের প্রতীক।
পৌরবাসীর সেবায় ভিপি মিন্টুর অঙ্গীকার,
ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, “আমি রাজনীতি করি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের ভালোবাসার জন্য। শেরপুর পৌরবাসী যদি আমাকে তাদের সেবক হওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে এই পৌরসভাকে আমি শুধু একটি প্রশাসনিক নগরী নয়, বরং একটি মানবিক, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব মডেল পৌরসভায় রূপ দিতে চাই।
আমি বিশ্বাস করি, জনগণের প্রতিনিধি মানে জনগণের দরজায় পৌঁছে যাওয়া। তাই মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখব। মানুষ যেন কোনো দালাল বা ভোগান্তি ছাড়া সরাসরি তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন, সেটিই হবে আমার প্রথম অঙ্গীকার। শেরপুর হবে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত একটি শান্তির নগরী। তরুণদের জন্য খেলাধুলা, কর্মসংস্থান ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, নারীদের জন্য নিরাপদ নগরী এবং প্রবীণদের জন্য সম্মানজনক নাগরিক সেবা।
আমি এমন একটি পৌরসভা গড়তে চাই, যেখানে নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। জন্মসনদ, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য কাউকে দিনের পর দিন ঘুরতে হবে না। প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলা হবে।
শেরপুর পৌরসভার প্রতিটি রাস্তা, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা ও আলোকসজ্জার উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আমি প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি, আগামীতেও থাকব ইনশাআল্লাহ। জনগণের প্রতিটি টাকা জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে - এটাই হবে আমার অঙ্গীকার। আমি কোনো নেতা হতে চাই না, আমি শেরপুর পৌরবাসীর একজন বিশ্বস্ত সেবক হতে চাই। আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়া থাকলে শেরপুরকে আমরা একসাথে উন্নয়ন, সৌন্দর্য ও মানবিকতার অনন্য উদাহরণে পরিণত করব বলে জানান ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু।”
দীর্ঘ বছর ধরে শেরপুর পৌরবাসী উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও একটি আধুনিক পৌর ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে আসলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। বিগত সময়ে যারা মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অনেকেই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। নাগরিক দুর্ভোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, পরিচ্ছন্নতার সংকট ও কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবার অভাবে শেরপুর পৌরসভা যেন ধীরে ধীরে একটি স্থবির জনপদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণেই শেরপুর তার ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার ব্যবসায়ী, তরুণ ভোটার ও সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবার এমন একজন সৎ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করন, যিনি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে বাস্তব উন্নয়নের মাধ্যমে শেরপুরকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য পৌরসভায় রূপ দেবেন এবং পৌর প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন।
যার ধারাবাহিকতায় শেরপুরে মানবিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে সুপরিচিত এই নেতাকে ঘিরে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌর এলাকার অলিগলি, চায়ের আড্ডা, রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে এখন একটিই প্রশ্ন - “উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামীর পথে কি দেখা যাবে তৃণমূলের প্রিয় মুখ ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টুকে?”
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন, মামলা-হামলার মধ্য দিয়েও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি ভিপি মিন্টু। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা ১৯৮৬ সালে শেরপুর কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়ে উত্তরাঞ্চলের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে শেরপুর ছিল উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আর সেই আন্দোলনের সামনের সারির সাহসী কণ্ঠগুলোর একটি ছিলেন তৎকালীন তুখোড় ছাত্রনেতা ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাও তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
শুধু রাজনীতি নয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর সরব উপস্থিতি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝেও রয়েছে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়নের সময়েও তিনি ছিলেন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়।
সব মিলিয়ে শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে এখন যে কটি নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম ভিপি রফিকুল ইসলাম মিন্টু। তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও নেতাকর্মীদের প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যানার, ফেস্টুন মুগ্ধভাবে গ্রহণ করছেন সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্যাগ, সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং উন্নয়ন ভাবনার সমন্বয়ে তিনি ইতোমধ্যেই পৌরবাসীর আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। এখন শেরপুরবাসীর চোখে একটাই স্বপ্ন - এমন একজন নেতৃত্বের হাত ধরে এগিয়ে যাক প্রিয় পৌরসভা, যে নেতৃত্ব মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি, উন্নয়নের প্রশ্নে আপসহীন এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতেই শেরপুরের জননন্দিত, জনপ্রিয়, ত্যাগী ও নির্ভীক জননেতা এবং তারুণ্যের অনুপ্রেরণা জনাব রফিকুল ইসলাম মিন্টু।
আরোও পড়ুন - টাইম ১০০ তালিকায় তারেক রহমান | বিশ্ব প্রভাবশালী তালিকায় নতুন স্বীকৃতি