
মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান (রংপুর)
কুড়িগ্রাম সদরের আরাজি পলাশবাড়ি মৌজায় সরকারি গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্পের খাস জমি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত সরকারি জমিতে ব্যক্তি নামে নামজারি করার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম। স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং ভূমিহীন পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
আরাজি পলাশবাড়ি মৌজার এস.এ দাগ ২০০১, ২০৭৩ ও ২০৭৪ নম্বর খাস জমিতে ১৯৮৯ সাল থেকে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়। প্রথম ধাপে ১৫টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। পরবর্তীতে আরও ২০টি পরিবার এবং ২০২১ সালে পাকা ঘর নির্মাণ করে ২৪টি পরিবারকে পুনর্বাসন দেওয়া হয়। একই এলাকায় বীরপ্রতীক তারামন বিবিকেও এক একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। এত দীর্ঘ প্রশাসনিক ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে এই জমিতে খাস জমি নামজারি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের একাধিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও খাস জমি নামজারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ২০২৩ সালে জেলা প্রশাসন নির্দেশ দেয়, আর.এস রেকর্ড সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এস.এ রেকর্ড অনুযায়ী জমির সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে নতুনভাবে নামজারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালেও একই বিষয়ে পুনরায় নির্দেশনা জারি হলেও সেটি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এতে সরকারি জমির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেড়ে যায়।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা জানান, খাস জমি নামজারি চলতে থাকলে তারা যেকোনো সময় উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। আজিম উদ্দিন বলেন সরকার আমাদের জমি দিয়েছে, ঘর দিয়েছে, এখন সেই জমি অন্য নামে রেকর্ড করা হচ্ছে, এতে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। ফারুক হোসেন জানান খাজনা ও নামজারি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। প্রবীণ বাসিন্দা হাছেন আলী বলেন সরকারি পুনর্বাসনের জমি এভাবে অন্য নামে চলে যাওয়া অস্বাভাবিক এবং অগ্রহণযোগ্য।
অভিযুক্ত এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, আর.এস রেকর্ড অনুযায়ী খাস জমি নামজারি করা হচ্ছে এবং সরকারি স্বার্থ থাকলে তা স্থগিত রাখা হয়। তবে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম চালানো হলে তা সরকারি শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি খাস জমিতে প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে নামজারি কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাবেক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সরকারি জমি রক্ষায় প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন এবং বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত না হলে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের ভূমিহীন পরিবারগুলো বড় ধরনের সামাজিক ও মানবিক সংকটে পড়বে। সরকারি খাস জমির সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।