
মো মানিক হোসেন নিরব প্রতিনিধি , আটোয়ারী (পঞ্চগড়)
পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার ৩নং আলোয়াখোয়া ইউনিয়নে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক পরিসরে খাল খনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শত শত কৃষকের উপস্থিতিতে এই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সূচনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশিত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে, কারণ এই আটোয়ারী খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিপামণি দেবী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও সাধারণ কৃষকরা অংশ নেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির বলেন, কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও অর্থনীতি অনেকাংশে পানি ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “খালগুলো পুনঃখনন ও সংস্কার করা গেলে কৃষকরা সারা বছর সেচ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে এমন কার্যকর উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের মতে, আটোয়ারী খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামণি দেবী তার বক্তব্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হন। তিনি সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যার কারণে ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে সেচ সংকট দেখা দেয়। ফলে এই আটোয়ারী খাল খনন উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলে মনে করছেন তারা। অনেক কৃষক আশা প্রকাশ করেছেন, খাল খননের ফলে ভবিষ্যতে একাধিক মৌসুমে চাষাবাদ করা সহজ হবে এবং উৎপাদন খরচও কমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে খালটি ভরাট ও নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের ফসলি জমি প্লাবিত হতো। বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী খালটি পুনঃখননের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ বিরাজ করছে। পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও ভারসাম্যে থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ অঞ্চলে খাল পুনঃখনন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য আটোয়ারী খাল খনন প্রকল্পকে স্থানীয় উন্নয়নের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, খনন কাজ শেষ হলে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। অনুষ্ঠানের শেষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথিরা খনন কাজের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। স্থানীয় সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সময়মতো কাজ সম্পন্ন হলে এই খাল ভবিষ্যতে এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরোও পড়ুন - মাদারীপুরে খাল খনন পরিদর্শনে এমপি খোকন, কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বারোপ