
মোঃকারিমুল ইসলাম মন্ডল , নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপ্তাহিক হাটের ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুরো ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং সিন্ডিকেট বাণিজ্যের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। “হাট ইজারা অনিয়ম” নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।
শনিবার (০৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে ধামইরহাট উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে ‘সচেতন ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তাদের দাবি, সাধারণ ব্যবসায়ীদের দরপত্রের সিডিউল সংগ্রহে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায় এবং পুরো কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, “হাট ইজারা অনিয়ম” এর কারণে সরকার যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, উপজেলার এই বৃহৎ সাপ্তাহিক হাটটি প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস হলেও এবার রহস্যজনকভাবে নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, সরকারি নির্ধারিত সম্ভাব্য মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে একক দরদাতাকে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এতে সরকারি কোষাগারে বড় অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বক্তাদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যেও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। “হাট ইজারা অনিয়ম” বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলেও তারা মন্তব্য করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রুহেল হোসেন, আলমপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিভেন সরকার এবং ব্যবসায়ী রানা হোসেন ও মনিরুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, সরকারি সম্পদ কোনোভাবেই একটি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া যায় না। তারা অভিযোগ করেন, সাধারণ ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানান, হাটটি শুধু একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়; এটি উপজেলার শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও দিনমজুরের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। তাই এখানে অনিয়ম হলে তার প্রভাব পুরো স্থানীয় অর্থনীতির ওপর পড়ে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক ইজারা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এবার যেভাবে “হাট ইজারা অনিয়ম” হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তারা অবিলম্বে বর্তমান ইজারা বাতিল করে পুনরায় উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান।
আরোও পড়ুন - ঈদুল আযহায় নাসিক পশুর হাটের দরপত্র আহ্বান, ২৩ স্থানে প্রস্তুতি