
মো. রেজওয়ান, রাবি প্রতিনিধিঃ
মা পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষ। সন্তানের সুখের জন্য নিজের জীবন, স্বপ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিতেও যিনি কখনো দ্বিধা করেন না, তিনিই মা। ভালোবাসা, ত্যাগ ও মমতার প্রতীক এই মানুষটিকে সম্মান জানাতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে মা দিবস। এ উপলক্ষে রাবির মা দিবসের আয়োজন ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা গেছে আবেগঘন এক পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মায়ের ত্যাগ, সংগ্রাম ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নানা স্মৃতিচারণ করেন। দিনটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আবেগঘন পোস্ট ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সীমান্ত নন্দী বলেন, মা এমন একজন মানুষ যিনি সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের কষ্ট গোপন রাখেন। তিনি বলেন, “আমার জীবনের প্রতিটি সফলতার পেছনে মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। ছোটবেলা থেকে তিনি আমাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে।” তিনি আরও বলেন, রাবির মা দিবসের আয়োজন তাকে মায়ের প্রতি নিজের দায়িত্ব ও ভালোবাসার কথা নতুনভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহাদী হাসান বলেন, মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়, এটি মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের বিশেষ উপলক্ষ।
তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে মায়ের সঙ্গে ঠিকভাবে কথা বলতে পারি না। কিন্তু একজন মা সবসময় সন্তানের খোঁজ রাখেন। তাঁর ভালোবাসা নিঃস্বার্থ ও চিরন্তন। মাহাদীর মতে, রাবির মা দিবসের আয়োজন শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আবেগকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরেছে।
ফারসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোখলেছুর রহমান মুন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট বুঝতে শিখেছি। এখন প্রতিটি মুহূর্তে মায়ের কথা বেশি মনে পড়ে।” তিনি বলেন, মা এমন একজন মানুষ যিনি সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাও ত্যাগ করেন। তাঁর ভাষায়, “মায়ের কোল পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।” তিনি মনে করেন, রাবির মা দিবসের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব আরও বেশি অনুভব করিয়েছে।
মা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল ভিন্ন আবহ। কেউ ভিডিও কলে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের সঙ্গে পুরোনো ছবি শেয়ার করে ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন আড্ডা ও আলোচনায়ও উঠে এসেছে মায়ের ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প। শিক্ষার্থীরা বলেন, জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে মা-ই সবচেয়ে বড় শক্তি ও সাহসের উৎস।
শিক্ষার্থীদের মতে, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রবণতা কমে গেলেও মায়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো কমে না। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পরিবার থেকে দূরে থাকায় মায়ের অভাব আরও বেশি অনুভূত হয়। তাই রাবির মা দিবসের আয়োজন শুধু একটি দিবস পালন নয়, বরং মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক আবেগঘন উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। দিনটি ঘিরে শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর সব মায়ের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুখ কামনা করেছেন।
আরোও পড়ুন - রাবিতে এটিএম কার্ড বিতরণে ভিড়, কার্ড পরিবর্তনে বিভ্রান্তি