
সালেকুজ্জামান শামীম, ঝিনাইদহ মহেশপুর প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে আবারও সক্রিয় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ অভিযানে দুই নারী ও এক পুরুষসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে, যারা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। বিজিবির এ পদক্ষেপে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় একটি মানব পাচার চক্র আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মহেশপুর সীমান্তকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষকে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে থাকে। বিশেষ করে দরিদ্র ও কর্মসংস্থানের সন্ধানে থাকা মানুষদের লক্ষ্য করে এই চক্র কাজ করে। সাম্প্রতিক ঘটনায়ও দেখা যায়, আটক তিনজন খুলনা জেলার কয়রা এবং চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে এসে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে মানব পাচার চক্র আটক অভিযান।
৫৮ বিজিবির অধীন কুসুমপুর বিওপি ক্যাম্পের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে। বিজিবি জানায়, সন্দেহজনক চলাচল লক্ষ্য করার পর দ্রুত অভিযান শুরু করা হয় এবং তিনজনকে সীমান্ত অতিক্রমের আগেই আটক করা সম্ভব হয়। তবে মানব পাচার চক্রের মূল দালালরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তারা দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার জন্য অর্থ প্রদান করেছিলেন। এই ধরনের চক্র সাধারণ মানুষকে ভালো জীবনের আশ্বাস দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে সীমান্ত পার করায়। ফলে অনেক সময় তারা আইনগত সমস্যার পাশাপাশি বড় ধরনের বিপদের মুখেও পড়ে। সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা নিয়মিত হওয়ায় মানব পাচার চক্র আটক অভিযানকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহেশপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দালাল চক্র বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে সীমান্ত পার করানোর চেষ্টা করে। প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকলেও কিছু অসাধু চক্র সুযোগ নিয়ে এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয়রা সীমান্ত নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
আটককৃত তিনজনকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতাদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনোভাবে মানব পাচার চক্র আটক ব্যর্থ না হয়।
আরোও পড়ুন - টেকনাফে অপরাধের দৌরাত্ম্য: অপহরণ-মানবপাচার রোধে মানববন্ধন