
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় অনুমোদন ছাড়াই পুকুর সংস্কারের নামে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু মেশিন অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে এলাকাজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি জমির মাটি কাটা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ থাকলেও এবার সরাসরি অভিযান চালিয়ে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
গতকাল রোববার (১১ মে ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের নিমপাড়া গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানী শ্রেণির ফসলি জমিতে পুকুর সংস্কারের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে টপসয়েল কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে এলাকার কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ পৌঁছালে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জমির মালিক ও চুক্তিভিত্তিক পুকুর খননকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা অপরাধ স্বীকার করেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী উভয়কে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন এবং ভবিষ্যতে কৃষি জমির মাটি কাটা থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করে লিখিত মুচলেকা দেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি দ্রুত লাভের আশায় ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইটভাটা ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে বিক্রি করছেন। এতে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়ে পড়ছে এবং কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির টপসয়েল পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক বছর সময় লাগে। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অভিযানের সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনটি প্রশাসনের নির্দেশে অকেজো করে দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন জানায়, বারবার সতর্ক করার পরও অভিযুক্তরা আইন অমান্য করে মাটি কাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই ভবিষ্যতে যাতে একই মেশিন ব্যবহার করে আবারও কৃষি জমির ক্ষতি করা না যায়, সে কারণেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল স্বাগত জানিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষিজমি রক্ষায় সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কোনো ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়া কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা উর্বর মাটি অপসারণ করতে পারবেন না। কৃষি জমির মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, প্রশাসনের এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে কৃষি জমি রক্ষা করা সম্ভব হবে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু জরিমানা নয়, ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে পরিবেশ ও কৃষি—উভয় ক্ষেত্রেই বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
আরোও পড়ুন - বেতাগীতে মাদকবিরোধী অভিযান, ৫ মাদকসেবীর কারাদণ্ড ও জরিমানা