
স্টাফ রিপোর্টার : আতিকুল ইসলাম
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগ আবারও সাধারণ মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। জেলার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের যে উদ্যোগ তিনি চালু করেছেন, তা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় তিন অসহায় নারীকে ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার (১৩ মে) অফিস সময় শেষ হওয়ার পরও পটুয়াখালীর মাটিভাঙ্গা গ্রামের বিধবা রানী বালা, ইটবাড়িয়ার আলেয়া বেগম এবং শারিকখালীর বিথী আক্তার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। বিষয়টি লক্ষ্য করে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী নিজেই তাদের কাছে এগিয়ে যান। পরে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের পারিবারিক সংকট ও আর্থিক দুরবস্থার কথা শোনেন। তিন নারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং মাথা গোঁজার মতো নিরাপদ একটি ঘর নির্মাণের সামর্থ্যও তাদের নেই।
তাদের করুণ বাস্তবতার কথা শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তিন পরিবারের হাতে ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের মতে, একজন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে এত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ সত্যিই বিরল ঘটনা।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিন নারী। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কোনো সহযোগিতা পাননি। জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক আচরণ তাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। রানী বালা বলেন, “আমরা ভাবিনি এত দ্রুত সহায়তা পাবো। জেলা প্রশাসক স্যারের জন্য আজ আমাদের মাথা গোঁজার আশ্রয়ের আশা তৈরি হয়েছে।” একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেন আলেয়া বেগম ও বিথী আক্তারও।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি এসে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতে পারছেন। ভূমি জটিলতা, আর্থিক সংকট, চিকিৎসা সহায়তা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা সব ধরনের বিষয়ে মানুষ প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে এই গণশুনানি এখন আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, একজন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। পটুয়াখালীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সরকারের মানবিক কর্মসূচিকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের যৌক্তিক দাবি দ্রুত সমাধান এবং দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে গণশুনানির মতো উদ্যোগ নিয়মিত চালু থাকবে। প্রশাসনের এই কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তুলছে।
আরোও পড়ুন - পবিপ্রবিতে শিক্ষক হামলা, মানববন্ধনে আহত ৯ শিক্ষক