
মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় প্রধান, রংপুরঃ
পবিত্র ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি একসঙ্গে শুরু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের ক্লাস, পরীক্ষা এবং তীব্র গরমের চাপের পর এই ছুটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে শহর থেকে গ্রামমুখী মানুষের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে ঘোষিত সরকারি ছুটির সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক দীর্ঘ অবকাশ পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর থেকে বহু শিক্ষার্থী গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফেরার আনন্দ যেন সবার মাঝেই আলাদা উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।
অভিভাবকদের মতে, টানা পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়েছিল। তাই এই গ্রীষ্মকালীন ছুটি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিরতি হিসেবে কাজ করছে। তারা বলছেন, ঈদের আনন্দের পাশাপাশি পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নতুন উদ্যমে আবারও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারবে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও বিনোদন স্পটগুলোতেও মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। অনেকে ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে পরিবার নিয়ে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার, সিলেট, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মতো পর্যটন এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে পর্যটকদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
শিক্ষকরা বলছেন, শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষাই নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক গঠনের জন্যও এমন বিরতি গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ক্লাসের বাইরে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়। তাই গ্রীষ্মকালীন ছুটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
অন্যদিকে ছুটিকালীন সময়ে সবাইকে নিরাপদে চলাচল এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সতর্কভাবে ভ্রমণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময় শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ এই অবকাশ শেষে নতুন উদ্যমে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে শিক্ষাঙ্গন এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
আরোও পড়ুন - ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্নাতক বাধ্যতামূলক, ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল