
মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ব্যাংক ম্যানেজার অপহরণ ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সদর বাজার কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুস সবুরকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও সহকর্মীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কবিরপুর এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। আহত আব্দুস সবুর বগুড়া জেলার সোলাইমন আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কালিয়াকৈর সদর বাজার কৃষি ব্যাংক শাখার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে তিনি বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবহনের অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগতির মাইক্রোবাস এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং পরে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে আশপাশের কেউ তৎক্ষণাৎ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এই ব্যাংক ম্যানেজার অপহরণ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে দিনের আলোতে এমন ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, মহাসড়ক এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, অপহরণের পর প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে আব্দুস সবুরকে মাইক্রোবাসের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যক্তিগত লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের কবিরপুর এলাকায় চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মানসিকভাবেও তিনি ভেঙে পড়েছেন। এই ব্যাংক ম্যানেজার অপহরণ ঘটনায় পরিবার গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়ককেন্দ্রিক অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাই, অপহরণ ও ডাকাতির মতো ঘটনা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই ব্যাংক কর্মকর্তা ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন- রাজশাহী-ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিযান: অপহরণকারী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার