
সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) সংলগ্ন একটি ছাত্রাবাসে তিন শিক্ষার্থীকে আটক ও সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ‘হ্যাভেন সিটি’ নামের একটি আবাসিক মেস থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাঁদের কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হাবিপ্রবি সমকামিতা ইস্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আটক হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাউসার (বাসা: নাটোর), ২৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মনিরুল (বাসা: নাটোর) এবং একই ব্যাচের রবিউল (বাসা: পাবনা)। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্তদের চলাফেরা ও আচরণ নিয়ে সহপাঠীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেল থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের ওপর নজরদারি শুরু করেন। পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মেসের একটি কক্ষ থেকে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, তাঁদের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যাটে আপত্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খবর পাওয়ার পরপরই প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনিরুল নিজের ভিন্নধর্মী ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়টি স্বীকার করলেও অন্য দুই শিক্ষার্থী তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। রবিউল বলেন, মনিরুলের সঙ্গে তাঁর কেবল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। অপরদিকে কাউসার দাবি করেন, তিনি সিনিয়রদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই মেসে গিয়েছিলেন এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে হাবিপ্রবি সমকামিতা অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে বা এর আশপাশে কোনো ধরনের নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার পরপরই স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রশাসনের এমন অবস্থানের কারণে হাবিপ্রবি সমকামিতা ঘটনা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তিন শিক্ষার্থীকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এদিকে ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়টি সামনে এনে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, আবার অনেকে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত সামনে আসছে। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেও কেউ কেউ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা তুলেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এদিকে হাবিপ্রবি সমকামিতা ইস্যুতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন - জাতীয় শর্ট ভিডিও প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাবিপ্রবির ‘দ্য ব্লাইন্ড মেন’ দল