
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
সমাজকল্যাণ ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পদক অর্জন করেছেন ‘দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী পরিষদ’-এর দুই শীর্ষ নেতা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসান রাকিব এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিদুল ইসলাম গফুর সম্প্রতি এই সম্মাননায় ভূষিত হন। সামাজিক উন্নয়ন, মানবসেবা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবেই তাদের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সামাজিক অঙ্গনে এই অর্জনকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা পদক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, মানবিক সহায়তা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজ উন্নয়নে ধারাবাহিক অবদান রাখার কারণে তাদের এই বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণ নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, করোনা পরবর্তী সময়ে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী পরিষদ। বিভিন্ন সময়ে খাদ্য সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান, রক্তদান কর্মসূচি এবং চিকিৎসা সহায়তাসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে সংগঠনটি। এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার কারণেই আজকের এই অর্জন এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রাকিব গফুর সম্মাননা প্রাপ্তির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্মাননা প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় আবুল হাসান রাকিব ও মাহিদুল ইসলাম গফুর বলেন, “যেকোনো কাজের স্বীকৃতিই আনন্দের, আর তা যদি হয় মানবসেবার জন্য, তবে সেই আনন্দ ও দায়বদ্ধতা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই সম্মাননা আমাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী পরিষদের প্রতিটি নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই ওয়ার্ল্ড জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলকে আমাদের কাজকে মূল্যায়ন করার জন্য।” তাদের বক্তব্যে ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয়ের কথাও উঠে আসে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন এই দুই সংগঠক। বিশেষ করে বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই রাকিব গফুর সম্মাননা অর্জনকে বগুড়ার জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের স্বীকৃতি সমাজসেবামূলক কাজে আরও মানুষকে উৎসাহিত করবে।
উল্লেখ্য, দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী পরিষদ একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সামাজিক সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় কাজ করছে। তরুণদের নিয়ে সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে তারা। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাকিব গফুর সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমাজসেবামূলক উদ্যোগের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। ভবিষ্যতেও মানবতার কল্যাণে তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আরোও পড়ুন - গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক