
মো:জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) গত দুই দিন ধরে চলমান টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। ঝড়–বৃষ্টিজনিত কারণে জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দেওয়ায় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় এখন পুরো ক্যাম্পাসে বড় ধরনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলে টানা ঝড় ও বৃষ্টির কারণে গতকাল ভোররাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ একাধিকবার বিচ্ছিন্ন হয়। কখনও বিদ্যুৎ আসছে, আবার মুহূর্তের মধ্যে চলে যাচ্ছে। এই অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কারণে একাডেমিক ভবনগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ল্যাব, ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পড়াশোনার স্বাভাবিক গতি থামিয়ে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইন ক্লাস, প্রেজেন্টেশন ও ল্যাব রিপোর্ট প্রস্তুত করতেও সমস্যা হচ্ছে। রসায়ন বিভাগের ২০২৩-২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে আমাদের পড়াশোনা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। ল্যাব কুইজ প্রিন্ট করা সম্ভব হয়নি, তাই সেটি বাতিল করতে হয়েছে। পাশাপাশি একটি ক্লাস টেস্টও পিছিয়ে গেছে।” একইভাবে সিএসই, বিজিইসহ একাধিক বিভাগে নির্ধারিত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ বলেন, বর্তমান সময়ে পড়াশোনার বড় অংশই মোবাইল ও ল্যাপটপনির্ভর। কিন্তু এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে ডিভাইস চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনলাইন অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাস নোট ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমাদের একাডেমিক ক্ষতি আরও বাড়বে।” শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিপর্যয় এখন একটি বড় মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে আবাসিক হলগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বিভিন্ন হলে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা গোসল, খাবার পানি সংগ্রহ ও দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় তাদের জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি অচল করে দেয়। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বিকল্পভাবে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না।
ক্যাম্পাস সংলগ্ন আরিফনগর, ঘোষপাড়া ও পাঁচআনী এলাকার অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যার সম্মুখীন হন। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ অনিয়মিত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিকেলে আরিফনগর এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ফলে পুরো এলাকায় অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং জনজীবন ব্যাহত হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (তড়িৎ) শাহরিয়ার জামান বলেন, ঝড়ের কারণে জাতীয় গ্রিডের লাইনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছিল। পিডিবির সহায়তায় মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুত ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় সাময়িক বলে তিনি জানান। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
আরোও পড়ুন - ইউজিসি গবেষণা প্রকল্পে মাভাবিপ্রবির ছয় অনুমোদন, গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা