
মুহাঃ এনামুল আহাদ (এনাম),স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিকলবাহা মইজ্জারটেক এলাকায় কর্ণফুলী সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় গোপনে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। সর্বশেষ এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছে কর্ণফুলীতে ইয়াবা উদ্ধার ঘটনা। পুলিশের এমন অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় সন্দেহভাজন দুই যুবকের ওপর নজরদারি শুরু করে শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় হেলাল উদ্দিনের ব্যাগ থেকে ৬ হাজার এবং মোস্তফা কামালের ব্যাগ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় আশপাশের লোকজনের মধ্যেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কর্ণফুলীতে ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় মাদক পাচার চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গ্রেপ্তার দুইজন হলেন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার হাবিবপাড়া এলাকার আলী আজগরের ছেলে মোঃ হেলাল উদ্দিন (২২) এবং চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও শাহ অলিউল্লাহ আবাসিক এলাকার মোহাম্মদ আনোয়ারের ছেলে মোস্তফা কামাল (২২)। পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে, তারা সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, তাদের পেছনে আরও বড় একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে। তাই কর্ণফুলীতে ইয়াবা উদ্ধার ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, কর্ণফুলী এলাকায় মাদক পাচার ও বিক্রির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা এনে নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা রোধে বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কর্ণফুলী ও আশপাশের কিছু এলাকায় মাঝে মধ্যেই মাদক কারবারিদের আনাগোনা দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে টার্গেট করে ইয়াবা ব্যবসা বিস্তারের চেষ্টা করছে একটি চক্র। তাই শুধু অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সাম্প্রতিক কর্ণফুলীতে ইয়াবা উদ্ধার ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আরোও পড়ুন - রাউজানে পুলিশের অভিযানে এলজি, কার্তুজ ও ছোরা উদ্ধার; গ্রেফতার ১