
মো মানিক হোসেন নিরব, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে বোরো মৌসুম শেষে শুরু হয়েছে রাস্তায় খড় শুকানো নিয়ে এক অঘোষিত মহোৎসব। ইউনিয়নের বিভিন্ন পাকা সড়কজুড়ে খড় বিছিয়ে রাখার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকরা খড় শুকানোর সুবিধার জন্য সড়ক ব্যবহার করলেও এতে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও নসিমন চালকদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরেজমিনে রাধানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কের একপাশ থেকে শুরু করে প্রায় পুরো রাস্তা জুড়েই খড় বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার ওপরেই গরু ও মহিষ দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে। এতে সড়কের পিচঢালা অংশে তৈরি হচ্ছে পিচ্ছিল আস্তরণ। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে রাস্তায় খড় শুকানো এতটাই বেড়েছে যে যানবাহন চলাচল প্রায় ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যান এবং সাধারণ পথচারীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সন্ধ্যার পর এবং গভীর রাতে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা জানান, খড়ের ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই বাইকের চাকা পিছলে যাচ্ছে। অনেক সময় ব্রেক করলেও গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। ইজিবাইক চালক আব্দুল করিম বলেন, “রাস্তার ওপর খড় বিছিয়ে রাখার কারণে হঠাৎ গাড়ি ঘোরানো বা ব্রেক করা খুব কঠিন হয়ে যায়। কয়েকদিন আগেও এক মোটরসাইকেল আরোহী পড়ে আহত হয়েছেন।” স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তায় খড় শুকানো এখন শুধু দুর্ভোগ নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে খড় শুকানোর পাশাপাশি রাস্তার ওপর খড়ের স্তূপ করে রাখার ঘটনাও দেখা গেছে। এতে ছোট যানবাহনের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি পরিবহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। কয়েকজন পথচারী জানান, দূর থেকে খড়ের উপস্থিতি বোঝা না যাওয়ায় হঠাৎ সামনে পড়ে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির পর খড় ভিজে গেলে রাস্তা আরও বেশি পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বাড়ির আঙিনা বা ফাঁকা মাঠ থাকা সত্ত্বেও অনেকে অলসতা ও অসচেতনতার কারণে পাকা রাস্তা ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রতিবছরই এই সমস্যা বাড়ছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাস্তায় খড় শুকানো বন্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং নিয়মিত মনিটরিং চালু করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে সড়কে খড় শুকানো বন্ধে স্থানীয়ভাবে জরিমানার ব্যবস্থাও চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কৃষিকাজ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; তবে জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সড়ক মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য, ব্যক্তিগত খামার বা মাড়াই কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য নয়। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির খবর শুনতে হতে পারে।
আরোও পড়ুন - আটোয়ারীতে গরু উদ্ধার: ভুট্টা ক্ষেত থেকে মিলল চুরি হওয়া ৩টি গরু