মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নারী-শিশুসহ ১১ জন আটক

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধীনস্থ বাঘাডাঙ্গা বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে। বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা পাসপোর্ট ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সীমান্তজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মহেশপুর সীমান্ত আটক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া ১১ জনের মধ্যে ৫ জন নারী, ২ জন পুরুষ এবং ৪ জন শিশু রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে দালাল চক্রের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রমের পরিকল্পনা করছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। বিজিবি দাবি করেছে, মানবপাচারকারীরা বিভিন্ন অসহায় মানুষকে ভারতে ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করার চেষ্টা করে। সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুর সীমান্ত আটক ঘটনায় মানবপাচার চক্রের তৎপরতা আবারও সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাত ১১টার দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালান। এ সময় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানরত কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় তারা অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন। বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত পথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানবপাচার রোধে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মহেশপুর সীমান্ত আটক ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই মানবপাচারকারীদের একটি সক্রিয় রুট হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসহায় মানুষদের সহজে ভারতে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সীমান্ত এলাকায় এনে দালালরা বিপজ্জনক পথে পারাপারের চেষ্টা চালায়। অনেক ক্ষেত্রে এসব মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় দালাল চক্র সক্রিয় থাকায় নারী ও শিশু পাচারের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মহেশপুর সীমান্ত আটক ঘটনা নতুন করে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। একই সঙ্গে মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

আরোও পড়ুন – মহেশপুর সীমান্তে মানব পাচার চক্র আটক: বিজিবির অভিযানে ৩ জন গ্রেফতার

মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নারী-শিশুসহ ১১ জন আটক

মে ২১, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধীনস্থ বাঘাডাঙ্গা বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে। বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা পাসপোর্ট ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সীমান্তজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মহেশপুর সীমান্ত আটক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া ১১ জনের মধ্যে ৫ জন নারী, ২ জন পুরুষ এবং ৪ জন শিশু রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে দালাল চক্রের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রমের পরিকল্পনা করছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। বিজিবি দাবি করেছে, মানবপাচারকারীরা বিভিন্ন অসহায় মানুষকে ভারতে ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করার চেষ্টা করে। সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুর সীমান্ত আটক ঘটনায় মানবপাচার চক্রের তৎপরতা আবারও সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাত ১১টার দিকে বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালান। এ সময় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানরত কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় তারা অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন। বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত পথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানবপাচার রোধে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে মহেশপুর সীমান্ত আটক ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই মানবপাচারকারীদের একটি সক্রিয় রুট হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসহায় মানুষদের সহজে ভারতে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সীমান্ত এলাকায় এনে দালালরা বিপজ্জনক পথে পারাপারের চেষ্টা চালায়। অনেক ক্ষেত্রে এসব মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় দালাল চক্র সক্রিয় থাকায় নারী ও শিশু পাচারের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মহেশপুর সীমান্ত আটক ঘটনা নতুন করে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। একই সঙ্গে মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

আরোও পড়ুন – মহেশপুর সীমান্তে মানব পাচার চক্র আটক: বিজিবির অভিযানে ৩ জন গ্রেফতার