সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় র্যাবের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৫৯৬ বোতল স্কাফ সিরাপ ও ২০ বোতল ফেন্সিডিল। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে র্যাব। স্থানীয়দের মধ্যে এ অভিযান ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক প্রবাহ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুরে মাদক আটক অভিযানগুলোতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাচ্ছে র্যাব।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬ এর ঝিনাইদহ ক্যাম্প (সিপিসি-২) সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে মহেশপুর থানাধীন সামান্তা গ্রামের আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন একাডেমি হাই স্কুলের সামনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বহন করা বস্তা দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তা খোলা হয়। পরে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা র্যাবের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
আটককৃতরা হলেন মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সবুজ হোসেন (৩৩) এবং বেতবেড়ী গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে মহাসিন আলী (৩২)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া স্কাফ সিরাপ ও ফেন্সিডিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল বলেও জানায় র্যাব। সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুরে মাদক আটক ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
র্যাব জানিয়েছে, সীমান্তঘেঁষা উপজেলা হওয়ায় মহেশপুরে মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্ত ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এসব চক্র ভাঙতে র্যাব নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও সচেতন হওয়া জরুরি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
র্যাব-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইমামীম মুবীন সরকার সুমন জানান, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।” উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, মহেশপুরে মাদক আটক অভিযানের মাধ্যমে একটি বড় মাদক সরবরাহ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্মোচিত হয়েছে।
আরোও পড়ুন – মহেশপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদ গ্রেফতার
মহেশপুরে র্যাবের অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার, আটক ২ মাদক ব্যবসায়ী
সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় র্যাবের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৫৯৬ বোতল স্কাফ সিরাপ ও ২০ বোতল ফেন্সিডিল। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে র্যাব। স্থানীয়দের মধ্যে এ অভিযান ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক প্রবাহ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুরে মাদক আটক অভিযানগুলোতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাচ্ছে র্যাব।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬ এর ঝিনাইদহ ক্যাম্প (সিপিসি-২) সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে মহেশপুর থানাধীন সামান্তা গ্রামের আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন একাডেমি হাই স্কুলের সামনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বহন করা বস্তা দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তা খোলা হয়। পরে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা র্যাবের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
আটককৃতরা হলেন মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সবুজ হোসেন (৩৩) এবং বেতবেড়ী গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে মহাসিন আলী (৩২)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া স্কাফ সিরাপ ও ফেন্সিডিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল বলেও জানায় র্যাব। সাম্প্রতিক সময়ে মহেশপুরে মাদক আটক ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
র্যাব জানিয়েছে, সীমান্তঘেঁষা উপজেলা হওয়ায় মহেশপুরে মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্ত ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এসব চক্র ভাঙতে র্যাব নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও সচেতন হওয়া জরুরি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
র্যাব-৬, সিপিসি-২, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইমামীম মুবীন সরকার সুমন জানান, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।” উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, মহেশপুরে মাদক আটক অভিযানের মাধ্যমে একটি বড় মাদক সরবরাহ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্মোচিত হয়েছে।
আরোও পড়ুন – মহেশপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদ গ্রেফতার