
মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকায় অভিনব কৌশলে মাদক পাচারের সময় দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। বিশেষ অভিযানে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা এবং পৃথক অভিযানে ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় একটি চক্র এই পদ্ধতিতে মাদক পরিবহন করে আসছিল। শনিবার (২৩ মে) পরিচালিত অভিযানে এই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের মাঝেও ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচার বেড়ে যাওয়ায় কচাকাটা থানা পুলিশ নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ অর্পণ কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তালতলা এলাকায় সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার তল্লাশি করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ দেখতে পায়, গ্যাস সিলিন্ডারে গাঁজা বহনের জন্য ভেতরে বিশেষ কৌশলে ফাঁকা জায়গা তৈরি করা হয়েছিল।
আটক ব্যক্তির নাম সুজন মিয়া (২৩)। তিনি কচাকাটা থানার শোভার কুঠি এলাকার বাসিন্দা এবং শামসুল হকের ছেলে। পুলিশ জানায়, প্রথমে সিলিন্ডারটি স্বাভাবিক খালি গ্যাস সিলিন্ডার মনে হলেও পরে ওজন ও গঠন দেখে সন্দেহ হয়। এরপর বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে সিলিন্ডার কেটে ভেতর থেকে প্রায় ৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারে নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে চক্রগুলো। বিশেষ করে গ্যাস সিলিন্ডারে গাঁজা বহনের ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া গাঁজাগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। মাদক চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সাধারণ পণ্য পরিবহনের আড়ালে এসব মাদক বহন করত। স্থানীয় সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলো ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র মাদক দেশের ভেতরে প্রবেশ করায়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এদিকে একই দিনে কচাকাটা থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বালারহাট সীমান্ত এলাকায় আরেকটি পৃথক অভিযান চালানো হয়। সেখানে নৌকাযোগে আসা এক ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তি মোন্নাফ (৩৬) বালারহাট এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, নারায়ণপুর ইউনিয়নের কথিত মাদক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ভাষার হয়ে তিনি নিয়মিত মাদক পরিবহন করতেন। এই তথ্য যাচাই করে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি জানান, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ব্যবহার করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর নজরদারি করছে। তিনি বলেন, “সমাজকে মাদকমুক্ত করতে কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গ্যাস সিলিন্ডারে গাঁজা পাচারের মতো অভিনব কৌশলও পুলিশের নজর এড়াতে পারবে না।” পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলছে।
আরোও পড়ুন - রামিশা হত্যা প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি