
মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সার্বিক ঈদ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে র্যাব-৮, সিপিসি-১ (পটুয়াখালী ক্যাম্প)। ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত, পশুর হাটে জাল টাকার বিস্তার রোধ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করেছে এলিট ফোর্সটি। রবিবার (২৪ মে, ২০২৬) সকালে পটুয়াখালী ক্যাম্প সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তৎপর থাকবে র্যাব।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, দুই জেলার গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাটগুলোকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কোরবানির পশু কেনাবেচার সময় যাতে কোনো প্রতারক চক্র জাল নোট ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য হাট এলাকায় আধুনিক জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে। হাটে আসা ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা যেন নির্বিঘ্নে লেনদেন করতে পারেন, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে র্যাব। বিশেষ করে রাতের বেলায় হাট এলাকায় অতিরিক্ত টহল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ ঈদ নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।
ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ রাখতে পটুয়াখালী ও বরগুনার মহাসড়ক, ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। র্যাবের ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যরাও বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি চালাচ্ছেন। বিশেষ করে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং যানবাহন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। র্যাব জানিয়েছে, ঈদের সময় যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপরাধ দমনে তাদের আভিযানিক দল ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ঈদ নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে আসা কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও নৌযানগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, হয়রানি কিংবা ডাকাতির ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নদীপথে মোবাইল টহল জোরদার করেছে র্যাব। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন অপরাধীদের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। নিরাপদ ঈদ উদযাপনে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে র্যাব-৮।
শুধু পরিবহন বা পশুর হাট নয়, ঈদকে কেন্দ্র করে জমে ওঠা মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পটুয়াখালী ও বরগুনার বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় সাদা পোশাকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে র্যাব। একই সঙ্গে প্রধান ঈদগাহ ও নামাজের মাঠগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জনগণের সহযোগিতা পেলে এবারের ঈদ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে র্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদ বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই মানুষ নিরাপদ ও স্বস্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন করুক।” তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
আরোও পড়ুন - বাউফলে ‘স্বপ্নের সেতু’ পরিদর্শনে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী | পটুয়াখালী সফর