
সালেকুজ্জামান শামীমঃ
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমার আওতায় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে চারজন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকেও একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির বন্দি মুক্তি কার্যকর করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় কারাগার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুক্তি প্রদান করে। ঈদের আগে এমন সিদ্ধান্তে কারাগার এলাকায় স্বস্তি ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া ওই ব্যক্তি নতুন জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেন জানান, এবারের ঈদুল আযহা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর দেশের চারজন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিও রয়েছেন। রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ অনুযায়ী তার বন্দি মুক্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। রবিবার বিকেলে মুক্তির সংক্রান্ত কাগজপত্র ই-মেইলের মাধ্যমে কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েদির নাম আব্দুল মালেক। তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের বুজরুক গড়গড়ি মাদ্রাসা পাড়ার মৃত মোন্তাজ মালিতার ছেলে। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, তার কয়েদি নম্বর ছিল ২৩০৫/এ। একটি হত্যা মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। পাশাপাশি তাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল। চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালত, সেশন নং ১০০/২০০৮ মামলায় এ রায় ঘোষণা করেন। চুয়াডাঙ্গা থানার মামলা নম্বর ০৮, তারিখ ১১-০৬-২০০৭ এবং জিআর ১৯৬/২০০৭, ধারা ৩০২ ও ৩৪ অনুযায়ী মামলাটি পরিচালিত হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আব্দুল মালেক প্রায় ১১ বছর সাজাভোগ করেছেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আওতায় তার অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়। এই বন্দি মুক্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি নতুনভাবে সমাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমা সাধারণত মানবিক বিবেচনা, আচরণগত উন্নতি এবং বিশেষ জাতীয় বা ধর্মীয় উপলক্ষকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয়ে থাকে। ঈদুল আযহার মতো বড় ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্তকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
মুক্তির সময় জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আব্দুল মালেককে একটি লুঙ্গি ও একটি পাঞ্জাবি প্রদান করা হয়। এছাড়া কারাগার কর্তৃপক্ষ তার অনাদায়ী পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড পরিশোধ করে দেয়। পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাকে নগদ এক হাজার টাকা সম্মাননাও প্রদান করা হয়। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় আব্দুল মালেক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পর পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরে যেতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তার স্বজনরাও এ বন্দি মুক্তি খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমার মাধ্যমে কারামুক্তি শুধু একজন বন্দির মুক্তিই নয়, বরং সমাজে পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি করে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর একজন মানুষকে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ দেওয়া সমাজের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করে। ঈদুল আযহার আগে চুয়াডাঙ্গায় এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে মানবিক ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
আরোও পড়ুন - মহেশপুর সীমান্তে মানব পাচার চক্র আটক: বিজিবির অভিযানে ৩ জন গ্রেফতার