তিন উপজেলায় জমে উঠেছে কোরবানির খাইট্টা বাজার, বাড়ছে চাহিদা

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ

পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার গ্রামগঞ্জে ততই বাড়ছে কোরবানির প্রস্তুতির ব্যস্ততা। পশুর হাটের পাশাপাশি এখন জমে উঠেছে কাঠের তৈরি মাংস কাটার গুঁড়ি বা কোরবানির খাইট্টা বিক্রির বাজারও। কামারপাড়া, কাঠের দোকান ও স’মিলগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাটাকাটি, ঘষামাজা ও বিক্রির ধুম। ঈদের আগে অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দোহারের কার্তিকপুর, নবাবগঞ্জের বান্দুরা ও কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের খাইট্টা। কোথাও ছোট গুঁড়ি, কোথাও বিশাল আকৃতির মোটা কাঠের ব্লক। ক্রেতারা পছন্দ অনুযায়ী দরদাম করে কিনছেন। অনেকেই পশু কেনার আগেই দা-ছুরি ও কোরবানির খাইট্টা কিনে ঘরে তুলে রাখছেন, যাতে ঈদের দিন মাংস কাটতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে বড় গরু কোরবানি দেওয়া হয়, তারা শক্ত ও ভারী কাঠের গুঁড়িকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিরা জানান, মাংস কাটার জন্য সাধারণ কাঠ ব্যবহার করা যায় না। শক্ত, আঁশযুক্ত ও টেকসই কাঠের প্রয়োজন হয়, যাতে ধারালো চাপাতি বা দা-এর আঘাতে সহজে ফেটে না যায়। এ কারণে তেঁতুল, নিম, বাবলা ও গাব গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি কোরবানির খাইট্টা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে তেঁতুল কাঠ দীর্ঘদিন টিকে থাকায় এর চাহিদা অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। অনেক ক্রেতা একবার কিনে কয়েক বছর ব্যবহার করেন বলেও জানান বিক্রেতারা।

বাজারে এবার গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেড়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, গাছের গুঁড়ি সংগ্রহ, শ্রমিক খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় খাইট্টার দামও বেড়েছে। বাজারে ছোট আকারের খাইট্টা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি আকারের ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং বড় আকারের কসাই উপযোগী খাইট্টা ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালো মানের তেঁতুল কাঠের তৈরি বড় গুঁড়ির দাম আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে। তারপরও চাহিদা কমেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রুহিতপুর এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “সারা বছর খাইট্টার তেমন বিক্রি না থাকলেও ঈদের আগে প্রচুর চাহিদা থাকে। অনেকে আগেভাগে অর্ডার দিয়ে রাখছেন। এবার কাঠের দাম বাড়লেও বিক্রি ভালো হচ্ছে।” অন্যদিকে বান্দুরার এক ক্রেতা জানান, ঈদের দিন দ্রুত ও সুন্দরভাবে মাংস কাটার জন্য ভালো মানের খাইট্টা খুবই জরুরি। তাই পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী টেকসই গুঁড়ি কেনার চেষ্টা করছেন তারা।

ঈদকে কেন্দ্র করে শুধু খাইট্টা বিক্রিই নয়, কামারদের কাজও বেড়েছে কয়েকগুণ। দা, চাপাতি ও ছুরি ধার দেওয়ার টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামারপাড়া। অনেক কাঠমিস্ত্রি বছরের অন্য কাজ বন্ধ রেখে এখন শুধুই খাইট্টা তৈরি করছেন। আবার কেউ কেউ সাময়িকভাবে অন্য পেশা ছেড়ে মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে এই বাজারে নেমেছেন। এতে ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও বাড়তি গতি এসেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের মতে, কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি এখন দা-ছুরি ও খাইট্টা কেনাও ঈদের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শহর ও গ্রাম মিলিয়ে পরিবারভিত্তিক কোরবানি বাড়ায় এসব সামগ্রীর চাহিদাও প্রতিবছর বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে কোরবানির খাইট্টা বিক্রি আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

আরোও পড়ুন – ঈদুল আজহা ২০২৬ সম্ভাব্য তারিখ, ছুটি প্রকাশ

তিন উপজেলায় জমে উঠেছে কোরবানির খাইট্টা বাজার, বাড়ছে চাহিদা

মে ২৭, ২০২৬

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ

পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার গ্রামগঞ্জে ততই বাড়ছে কোরবানির প্রস্তুতির ব্যস্ততা। পশুর হাটের পাশাপাশি এখন জমে উঠেছে কাঠের তৈরি মাংস কাটার গুঁড়ি বা কোরবানির খাইট্টা বিক্রির বাজারও। কামারপাড়া, কাঠের দোকান ও স’মিলগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাটাকাটি, ঘষামাজা ও বিক্রির ধুম। ঈদের আগে অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দোহারের কার্তিকপুর, নবাবগঞ্জের বান্দুরা ও কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের খাইট্টা। কোথাও ছোট গুঁড়ি, কোথাও বিশাল আকৃতির মোটা কাঠের ব্লক। ক্রেতারা পছন্দ অনুযায়ী দরদাম করে কিনছেন। অনেকেই পশু কেনার আগেই দা-ছুরি ও কোরবানির খাইট্টা কিনে ঘরে তুলে রাখছেন, যাতে ঈদের দিন মাংস কাটতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে বড় গরু কোরবানি দেওয়া হয়, তারা শক্ত ও ভারী কাঠের গুঁড়িকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিরা জানান, মাংস কাটার জন্য সাধারণ কাঠ ব্যবহার করা যায় না। শক্ত, আঁশযুক্ত ও টেকসই কাঠের প্রয়োজন হয়, যাতে ধারালো চাপাতি বা দা-এর আঘাতে সহজে ফেটে না যায়। এ কারণে তেঁতুল, নিম, বাবলা ও গাব গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি কোরবানির খাইট্টা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে তেঁতুল কাঠ দীর্ঘদিন টিকে থাকায় এর চাহিদা অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। অনেক ক্রেতা একবার কিনে কয়েক বছর ব্যবহার করেন বলেও জানান বিক্রেতারা।

বাজারে এবার গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেড়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, গাছের গুঁড়ি সংগ্রহ, শ্রমিক খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় খাইট্টার দামও বেড়েছে। বাজারে ছোট আকারের খাইট্টা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি আকারের ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং বড় আকারের কসাই উপযোগী খাইট্টা ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালো মানের তেঁতুল কাঠের তৈরি বড় গুঁড়ির দাম আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে। তারপরও চাহিদা কমেনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রুহিতপুর এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “সারা বছর খাইট্টার তেমন বিক্রি না থাকলেও ঈদের আগে প্রচুর চাহিদা থাকে। অনেকে আগেভাগে অর্ডার দিয়ে রাখছেন। এবার কাঠের দাম বাড়লেও বিক্রি ভালো হচ্ছে।” অন্যদিকে বান্দুরার এক ক্রেতা জানান, ঈদের দিন দ্রুত ও সুন্দরভাবে মাংস কাটার জন্য ভালো মানের খাইট্টা খুবই জরুরি। তাই পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী টেকসই গুঁড়ি কেনার চেষ্টা করছেন তারা।

ঈদকে কেন্দ্র করে শুধু খাইট্টা বিক্রিই নয়, কামারদের কাজও বেড়েছে কয়েকগুণ। দা, চাপাতি ও ছুরি ধার দেওয়ার টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামারপাড়া। অনেক কাঠমিস্ত্রি বছরের অন্য কাজ বন্ধ রেখে এখন শুধুই খাইট্টা তৈরি করছেন। আবার কেউ কেউ সাময়িকভাবে অন্য পেশা ছেড়ে মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে এই বাজারে নেমেছেন। এতে ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও বাড়তি গতি এসেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের মতে, কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি এখন দা-ছুরি ও খাইট্টা কেনাও ঈদের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শহর ও গ্রাম মিলিয়ে পরিবারভিত্তিক কোরবানি বাড়ায় এসব সামগ্রীর চাহিদাও প্রতিবছর বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে কোরবানির খাইট্টা বিক্রি আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

আরোও পড়ুন – ঈদুল আজহা ২০২৬ সম্ভাব্য তারিখ, ছুটি প্রকাশ