
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর সীমান্ত এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক চোরাচালান চক্র। সীমান্তপথ ব্যবহার করে ভারতীয় নিষিদ্ধ ওষুধ এবং মাদক জাতীয় ট্যাবলেট দেশে প্রবেশের অভিযোগের মধ্যেই বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে ৩৩৬৮ পিস ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ও ২ বোতল কোডিন সিরাপসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, “রাজশাহী সীমান্তে ট্যাপেনটাডল” পাচারের বিরুদ্ধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১ বিজিবির মাজারদিয়া বিওপির একটি চৌকষ টহল দল রাজপাড়া থানাধীন বুলনপুর আইবাধ নদীর ঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার বহন করা ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট এবং কোডিন সিরাপ উদ্ধার করা হয়। সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানকারীরা সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে “রাজশাহী সীমান্তে ট্যাপেনটাডল” পাচারের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোঃ সোনারুল (৩৫)। তিনি রাজশাহীর দামকুড়া থানার চরমাজারদিয়া গ্রামের মোঃ আনারুলের ছেলে বলে জানা গেছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগে থেকেই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। তথ্য ছিল, ভারত থেকে একটি বড় মাদকের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বুলনপুর আইবাধ নদীর ঘাট এলাকায় বিজিবির সদস্যরা অবস্থান নেন এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।
বিজিবি সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর রাত পৌনে ১১টার দিকে একজন ব্যক্তিকে নদীর ঘাটের দিকে সন্দেহজনকভাবে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের ব্যাগে ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর ব্যাগ তল্লাশি করে ৩৩৬৮ পিস ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট এবং ২ বোতল কোডিন সিরাপ উদ্ধার করা হয়। বিজিবির দাবি, “রাজশাহী সীমান্তে ট্যাপেনটাডল” পাচারের সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী নদীপথ ও দুর্গম এলাকাকে ব্যবহার করে প্রায়ই মাদক চোরাকারবারিরা অবৈধ চালান আনার চেষ্টা করে। বিশেষ করে ভারতীয় ট্যাপেনটাডল, ফেনসিডিল ও কোডিন সিরাপের চাহিদা বাড়ায় এসব চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করছে মাদক পাচারকারীরা। ফলে তাদের শনাক্ত করতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণেও তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। উদ্ধার হওয়া ট্যাপেনটাডল ট্যাবলেট ও কোডিন সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্যও বেশ উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে। “রাজশাহী সীমান্তে ট্যাপেনটাডল” উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে গ্রেফতারকৃত সোনারুলকে জব্দকৃত মাদকসহ দামকুড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে, এ ঘটনার পেছনে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।
আরোও পড়ুন -ঈদে রাজশাহীতে র্যাবের কড়া নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৫ জেলা!