
মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক অটোরিকশা চালকের। দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলজুড়ে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক নারী যাত্রী, যিনি বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতি ও মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচলের কারণেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই মির্জাগঞ্জ অটোরিকশা দুর্ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আজ বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের সুবিদখালী এলাকার হারুন রাড়ীর বাড়ির সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘নব দিগন্ত (রাফি) পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একই দিক দিয়ে চলা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি মুহূর্তের মধ্যে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। ভয়াবহ এই মির্জাগঞ্জ অটোরিকশা দুর্ঘটনা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় অটোরিকশা চালক তৈয়ব আলী মীরা (৬০) এবং নারী যাত্রী পিয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে দ্রুত মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক তৈয়ব আলী মীরাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তৈয়ব আলী বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার ছোপখালী গ্রামের নাজেম আলী মীরার ছেলে। এদিকে গুরুতর আহত পিয়ারা বেগমের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলছিল। ধাক্কার শব্দ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আশপাশের বাড়ির লোকজন ছুটে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ওই সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির বাস ও তিন চাকার যানবাহনের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় ঝুঁকিও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় চালকেরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মির্জাগঞ্জ অটোরিকশা দুর্ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেল্পার পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ থানার একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পলাতক চালক ও তার সহকারীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু মামলা নয়, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসচালক ও সহকারীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল কাজ করছে। এদিকে ভয়াবহ এই মির্জাগঞ্জ অটোরিকশা দুর্ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরোও পড়ুন - রাধানগরে খড় শুকানোয় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ব্যাহত যান চলাচল