
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ, ব্যঙ্গাত্মক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে সাংবাদিকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের ছাতক আমলী আদালতে দায়ের হওয়া এ মামলাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ, জামায়াত-শিবির, ছাত্রসংগঠনের সাবেক নেতাকর্মী, অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং এক সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ছাতক উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শামছ উদ্দীন খান বাদী হয়ে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৫০০/৫০১/১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা তাদের নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য, ব্যঙ্গচিত্র ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট প্রকাশ ও প্রচার করেছেন। বাদীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী ছাড়াও কয়েকজন অনলাইন এক্টিভিস্ট রয়েছেন। এছাড়া একজন সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তারা রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের কারণে দলের নেতাকর্মীরা চরমভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী শামছ উদ্দীন খান মামলার আবেদনে আরও বলেন, তিনি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। আসামিরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কটূক্তিমূলক পোস্ট প্রচার করেছেন, যা রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিরতা উসকে দিতে পারে। তিনি দাবি করেন, আসামিদের পোস্ট সরিয়ে নিতে ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে অনুরোধ জানানো হলেও তারা তা করেননি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত পোস্টের রহস্য উদঘাটন, সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন জব্দ এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের আবেদনও জানানো হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আইন অনুযায়ী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিক ও অনলাইন এক্টিভিস্টদের আসামি করার ঘটনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কটূক্তি, অপপ্রচার ও মানহানিকর কনটেন্ট প্রকাশের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিভাজন গভীর হচ্ছে। তারা মনে করছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখেও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মামলা ব্যবহারের প্রবণতাও উদ্বেগজনক বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ।
ছাতক আদালতে দায়ের হওয়া এই তারেক রহমান মামলা এখন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার আসামীরা হলেন, ১/ মোঃ জুবেল মিয়া (২৭) পিতা- মোঃ আসদ মিয়া সাং ও থানা- নবীগঞ্জ, জেলা--হবিগঞ্জ, ২/ জামায়াত নেতা মোঃ শাহাব উদ্দিন (৪৮) পিতা- মৃত মোঃ আছকর আলী - ফরিদপুর, থানা- ফেঞ্চুগঞ্জ, জেলা- সিলেট। ৩/ মোঃ আবুল হাসান (৪৬) পিতা- আব্দুর রব বাসা- উদ্দীপন-৩৬, মীরাবাজার, সিলেট। সহ সভাপতি, ১৫নং ওয়ার্ড, যুবলীগ, সিলেট মহানগর। ৪/ মোঃ তোফায়েল হোসেন (২৫) পিতা- মোঃ মনির আলী সাং- হাজারীগাঁও, থানা- বিশ্বনাথ, জেলা- সিলেট। বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা। ৫। মোঃ আব্দুল খালিক (৪৮) পিতা- মাওলানা মাসুকুর রহমান বাসা- এফ-৭, বন্ধন, খাসদবির, থানা- বিমানবন্দর, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট। সহ সভাপতি, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, সিলেট মহানগর, ৬/হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোবাশির মিয়া (৩২) পিতা- মোঃ আবুল কালাম গ্রাম- জিয়াপুর, থানা- নবীগঞ্জ, জেলা- হবিগঞ্জ।
৭। মাহের আর রাহমান (২৬) পিতা- আফতাব উদ্দিন গ্রাম- পনাইরচর, থানা- গোলাপগঞ্জ, জেলা- সিলেট। সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ছাত্র শিবির সিলেট এম.সি কলেজ শাখা, সিলেট।
৮/মোঃ জাকির মিয়া (২৮) পিতা- দুলাল মিয়া, গ্রাম- দয়ামীর বাজার, থানা- ওসমানীনগর, জেলা-সিলেট।
সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মদন মোহন কলেজ, সিলেট। ৯/ রিমা আক্তার পলি (২৬) পিতা- মৃত আকরম আলী
সাং- হরিনাথপুর, থানা- মোগলা বাজার, জেলা- সিলেট।
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ। ১০/ মোস্তফা ফজলে এলাহী (২৬) পিতা- মোঃ মারুফ আহমেদ
গ্রাম- আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর, থানা- বিয়ানী বাজার, জেলা- সিলেট। সিলেট মহানগর ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা।
১১/ মোঃ মামুনুল হক (৩৮) পিতা-মৃত মোঃ গৌছুল হক গ্রাম- বাগইন, থানা- ছাতক, জেলা- সুনামগঞ্জ। সাধারণ সম্পাদক, ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগ।
১২/ মোছাঃ ছাবিয়া বেগম (২৮) পিতা- আব্দুল শহীদ গ্রাম- চানপুর, থানা- ছাতক, জেলা- সুনামগঞ্জ। ছাতক উপজেলা মহিলা যুবলীগ নেত্রী।
১৩/ মোঃ জাকির হোসাইন (৩০) পিতা- মোঃ জয়নাল আবেদীন গ্রাম- দোল্লভপুর, থানা- সদর, জেলা- মৌলভীবাজার। অনলাইন এক্টিভিষ্ট।
১৪/ মোঃ আব্দুল হামিদ শিমুল (৩৩) পিতা- শাহ আলম গ্রাম- লামাগাঁও, থানা- সদর, জেলা- সিলেট।
সাবেক ছাত্র শিবির নেতা। ১৫/রাসেল আহমদ (৩৩) পিতা- তাজ উদ্দিন গ্রাম- সাউদগ্রাম, থানা- কানাইঘাট, জেলা- সিলেট। সহ সভাপতি কানাইঘাট উপজেলা ছাত্রলীগ। ১৬ /আমিনুল ইহসান মোঃ শাকির গ্রাম- বুরাইয়া, থানা- ছাতক, জেলা-সুনামগঞ্জ। সাবেক ছাত্র শিবির নেতা। ১৭/মোজাব্বির আহমদ (২১) পিতা- মোঃ আব্দুস সালাম
গ্রাম- শাখারী কোনা, থানা- বিশ্বনাথ, জেলা- সিলেট। সাধারণ সম্পাদক, লামাকাজি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ।
১৮/জাবের হোসাইন (২৫) পিতা- নুর মোহাম্মদ গ্রাম- শেওলাপাড়া, থানা- ছাতক, জেলা- সুনামগঞ্জ। সাবেক ছাত্র শিবির নেতা। ১৯/ মোঃ মঈন উদ্দিন (৩৬) পিতা- আব্দুল হামিদ গ্রাম- বাওনপুর, থানা- বিশ্বনাথ, জেলা- সিলেট।
সাধারণ সম্পাদক, ছাত্র শিবির, সুরমা অঞ্চল, সিলেট। ২০/ আশরাফুল ইসলাম নোবেল (২৫) পিতা- ফারুকুল ইসলাম গ্রাম- তালুকদারপাড়া, থানা- সদর, জেলা- সিলেট।
সাবেক ছাত্র শিবির নেতা। ২১/শেখ সুলতান মাহমুদ রাব্বি (২৩) পিতা- শেখ মোঃ সাদেক মিয়া গ্রাম- বেতাপুর, থানা- নবীগঞ্জ, জেলা- হবিগঞ্জ। সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ। ২২। রাজনৈতিক এক্টিভিষ্ট ও সাংবাদিক মোঃ সাজন মিয়া (২৬) গ্রাম- পানিউমদা, থানা- নবীগঞ্জ, জেলা- হবিগঞ্জ। ২৩।মোঃ আব্দুল কাইয়ুম (২৩) পিতা- আব্দুল নূর
গ্রাম- ঘোরাখাল সাধুহাটি, থানা- সদর, জেলা- মৌলভীবাজার।
অনলাইন এক্টিভিষ্ট। ২৪। আব্দুল কাদির জিলানী (২২) পিতা- মাসুক মিয়া গ্রাম- রায়সন্তোষপুর, থানা- ছাতক, জেলা- সুনামগঞ্জ।
অনলাইন এক্টিভিষ্ট। ২৫। মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (৩০) পিতা- মৃত আব্দুল ওয়াহিদ গ্রাম- সনুয়াখাই, থানা- জগন্নাথপুর, জেলা- সুনামগঞ্জ। অনলাইন এক্টিভিষ্ট।
আরোও পড়ুন - রাসিকে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ঈদ উপহার, ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর