
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজধানী ঢাকার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়েও তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও ধামরাই উপজেলায় সকাল গড়াতেই সূর্যের তাপ অসহনীয় রূপ নিচ্ছে। তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বাড়ছে, ফলে মানুষ হাঁসফাঁস পরিস্থিতির মধ্যে দিন পার করছেন।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর, ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক ও ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুপুরের পর রাস্তায় টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ ও ভ্যাপসা গরমের কারণে তারা দীর্ঘসময় কাজ করতে পারছেন না। অল্প কাজেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ছে এবং অনেকের মধ্যে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। কাজের ফাঁকে অনেকেই রাস্তার পাশের গাছতলায় বিশ্রাম নিচ্ছেন অথবা ঠান্ডা পানি ও শরবতের দোকানে ভিড় করছেন কিছুটা স্বস্তির আশায়।
সাভারের কয়েকজন রিকশাচালক জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যাত্রী তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে যাত্রী যেমন কমছে, তেমনি তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে। একই অবস্থা দেখা গেছে কেরানীগঞ্জ ও নবাবগঞ্জের স্থানীয় বাজারগুলোতেও। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে দোকানে ক্রেতা উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিক্রিও কম হচ্ছে। ফলে তীব্র গরম স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে কৃষি খাতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ধামরাই ও দোহারের কয়েকজন কৃষক জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে জমিতে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। দীর্ঘসময় রোদে কাজ করতে না পারায় কৃষি কার্যক্রমেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মৌসুমি ফসল উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ওপরও গরমের চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চলমান ভ্যাপসা গরমে শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। তারা প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের সময় বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার, হালকা রঙের পোশাক পরা এবং পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করারও আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আপাতত তাপমাত্রা দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। ফলে আরও কয়েকদিন ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট দিন দিন বাড়ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
আরোও পড়ুন - ঢাকার মিরপুরে রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দোহারে মানববন্ধন, খুনিদের ফাঁসির দাবি